শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি  » «   ইলিয়াস আলীর বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুলু, মেয়র আরিফ  » «   দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন  » «   একজন অভিজ্ঞ স্টাফ রিপোর্টার আবশ্যক  » «   গুজরাটে মোদী’র অগ্নিপরীক্ষা  » «   বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিস্তিন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত শতাধিক  » «   দেশের মানুষকে আন্ডারইস্টিমেট করবেন না: মির্জা ফখরুল  » «   ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ২০ বছর পূর্তি  » «   রেসিপিঃজলপাইয়ের টক-মিষ্টি আচার  » «   রসুন সবজি নাকি মসলা, জানতে আদালতে মামলা  » «   জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে প্রত্যাখ্যান  » «   পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের বার্ষিক সাধারণ সভা  » «   ভারত থেকে কয়লা আমদানী পুনরায় চালু  » «   বড়লেখায় গৃহবধূ হত্যা: স্বামীসহ গ্রেফতার ২  » «  

আমাদের থিয়েটার আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম সুবর্ণ ফসল : রুমা মোদক

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পাল করে নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার’। এ দলটি ১৯৮৯ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর নামে ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা’ এবং ১৯৯৭ সালে ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক’ প্রবর্তন করে।

নাট্যচর্চায় অগ্রণী ভূমিকার জন্য এই পদক প্রদান করা হয়। এ বছর মুনীর চৌধুরী সম্মাননা পেয়েছেন ইস্রাফিল শাহীন এবং মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক পেয়েছেন রুমা মোদক।

গত সোমবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এই সম্মাননা ও পদক প্রদান করা হয়। রুমা মোদক নিজের ফেসবুকে ওয়ালে পোস্ট করেছেন ”মঞ্চে কিছু কথা” । ডেইলি সিলেটের পাঠকের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

মঞ্চে কিছু কথা

রুমা মোদক

আজকের অনুষ্ঠানের সম্মানিত প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক জনাব ড. গওহর রিজভী, বিশেষ অতিথি আই এফ আই সি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহ এ সারওয়ার, সম্মানিত সভাপতি আমাদের অগ্রজা থিয়েটার চর্চার পথিকৃৎ ও আরাধ্য আদর্শ ফেরদৌসি মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের নাটকের প্রাণপুরুষ জনাব রামেন্দু মজুমদার। সামনে বসে আছেন সম্মানিত সুধীমণ্ডলী। সবাইকে আমি ও আমার সংগঠন জীবন সংকেতের পক্ষ থেকে জানাই অন্তহীন শুভকামনা।বাংলা আধুনিক থিয়েটারের প্রানপুরুষ মুনীর চৌধুরী ও থিয়েটারের তারুণ্যের পথিকৃৎ মোহাম্মদ জাকারিয়ার পূণ্যস্মৃতির স্মরণে আজ এই আয়োজন। আমি বিনীত ও অন্তহীন অভিনন্দন জানাই মুনীর চৌধুরী সম্মাননা প্রাপ্ত কৃতিমান নাট্যজন জনাব ইস্রাফিল শাহীনকে।

থিয়েটার আজ আমাকে মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক প্রদান করে যে সম্মানে সম্মানিত করছে আমি বিনম্র হৃদয়ে সেই সম্মান মাথায় তুলে নিচ্ছি। এই সম্মান গ্রহণ করার মুহুর্তে আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা সহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদ ও অগণিত বীর যোদ্ধা ও বীরাংগনাদের যাদের আত্মবিসর্জনের গৌরব মেখেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। সেই মহাত্মাদের অমূল্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বপরিচয়ে উদ্ভাসিত স্বাধীন দেশ, নান্দনিক চর্চার নন্দিত উদ্যান এই থিয়েটারের মঞ্চ, আমাদের প্রাণের আংগিনা। আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি মোঃ জাকারিয়া সহ থিয়েটার চর্চার সকল অগ্রপথিকদের, যাদের কঠিন শ্রম আর চেষ্টায় আমরা আজ হাঁটতে পারছি থিয়েটার চর্চার মসৃণ পথ ধরে। সীমাহীন কৃতজ্ঞতা সব নারী মঞ্চকর্মীদের,পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি স্বাধীন দেশের মঞ্চ নারীদের জন্য অনায়াস চর্চা ও আগ্রহের কেন্দ্রে স্থাপন করতে অসীম অবদান রেখেছেন।

সম্মানিত সুধী আমি আজ এই সম্মান গ্রহন করছি রাজধানীর বাইরের সেইসব নাট্যকর্মীর পক্ষ থেকে, আত্মপ্রতিষ্ঠা আর আত্মকেন্দ্রিকতার মোহময় হাতছানির কাছে আত্মসমর্পণ না করে যে নাট্যকর্মী হাজারো প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে মঞ্চে কাজ করে যাচ্ছেন অবিচল। আমি এই সম্মান গ্রহন করতে চাই ধর্মান্ধতা ও কূপমুণ্ডুকতার কাছে পরাজিত সেই নাট্যকর্মীর পক্ষ থেকে যে নাট্যকর্মী ক্রমাগত কয়েক মাস মহড়া করে শো এর আগের দিন এসে হাতজোড় করে ক্ষমা চায় মঞ্চে উঠতে পারবে না বলে। এই সম্মান গ্রহণ করতে চাই সেই নারী নাট্যকর্মীর পক্ষে যে কিনা মঞ্চকে প্রচণ্ড ভালোবাসা সত্ত্বেও মঞ্চ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় পরিবারের তীব্র বাঁধা আর সমাজের অপবাদের কাছে নতজানু হয়ে। আমি এই সম্মান গ্রহণ করছি সেই নারী নাট্যকর্মীর পক্ষে কয়েকমাস ক্রমাগত মহড়ার পর যে নারীর ভাই শোএর দিন বিকেলে রাস্তায় আমাদের পথ আটকে বলে, আজ ওর বোনকে নাটকের জন্য ফোন দিলে আমাদের ঠ্যাং ভেংগে দেবে।

সুধীমণ্ডলী, আমি মঞ্চের জন্য প্রথম নাটক লিখি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে। যা আমার দল জীবন সংকেত মঞ্চে আনে ১৯৯৯ সনে। সে অর্থে আমি মঞ্চে ওতোপ্রোত কাজ করছি প্রায় ২০ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে প্রান্তিকে ফিরে গিয়েছিলাম পেশার খাতিরে। কিন্তু এই মঞ্চই পরে হয়ে উঠেছে আমার প্রিয়তম শিকড়, গভীরতম ভালোবাসার শৃংখল।সেই শৃংখলের আকর্ষন এতো তীব্র সেই ভালোবাসার দায়বদ্ধতা এতোটাই প্রবল যে কোনমতেই আর ছিন্ন করে কেন্দ্রমুখী হতে পারি না।আজ যখন সন্তানদের লেখাপড়ার প্রয়োজনে রাজধানীমুখী হবার ভীষণ প্রয়োজন, তখনো এই মঞ্চ এই থিয়েটারই একমাত্র তীব্র ভালোবাসার বাহু বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরে রাখে।

আমরা যারা প্রতিদিনের শত সহস্র প্রতিবন্ধকতাকে এই ভালোবাসার শক্তিতে অগ্রাহ্য করে মঞ্চ আঁকড়ে পড়ে আছি তারা একটি কথা প্রায়ই শুনি, থিয়েটার করে আমরা কী পাই? আত্মীয় পরিজনদের কাছে শুনি, বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে শুনি। আজ এখানে দাঁড়িয়ে তাদের সবিনয়ে বলি এই যে আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করেছি সেতো থিয়েটারের জন্যই। মূলত আমরা যারা থিয়েটার করি এই সম্মান কিংবা সামান্য স্বীকৃতি এর চেয়ে অধিক কোন অর্থ বিত্ত কিংবা বৈষয়িক প্রত্যাশা আমাদের নেই জীবনের কাছে।

সম্মানিত সুধী আমি এই সম্মাননা পাবার হিরন্ময় মুহুর্তে ভালোবাসা জানাই আমার জীবনসংগী অনিরুদ্ধ কুমার ধর কে। মূলত মঞ্চের সহকর্মী থেকে যে কিনা আমার জীবনসংগী হয়েছে আর বলা বাহুল্য যার হাত ধরে আমার মঞ্চে আসা মঞ্চে থাকা এবং মঞ্চকে ভালোবাসা। মূলত নানাবিধ প্রতিবন্ধকতায় জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করা যে ভালোবাসা তার মঞ্চের জন্য তাই একছাদের নীচে প্রতিমূহুর্তে সংক্রামিত হয় আমার মাঝে। আমি সীমাহীন ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই আমার দল জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠীর সকল কর্মী ও ভাইবোনদের। জেলা শহরে আমাদের একটি কার্যালয় পর্যন্ত নেই, মহড়ার স্থান নেই।

আক্ষরিক অর্থে মাঠে ময়দানে মহড়া করেও যাদের অক্লান্ত চর্চায় আমরা প্রতিদিন মঞ্চে বেঁচে থাকি। প্রতিদিন আমার রচিত নাট্যভাষ্যগুলো প্রাণ পায়।
বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। স্বাধীনতার পক্ষের সরকার। আমাদের থিয়েটার আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম সুবর্ণ ফসল। একমাত্র স্বাধীনতার পক্ষের রাষ্ট্রীয় শক্তি পারে স্বাধীনতার এই সুফলটিকে যথার্থ পৃষ্ঠপোষকতা করে পরিপুষ্ট করে তুলতে। এই থিয়েটারই এখনো একমাত্র শিল্পমাধ্যম স্বাধীনতার সুমহান চেতনার সাথে যার কোন আপোষ নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের রীতি অনুসরণ করে বর্তমান সরকার এই দেশের থিয়েটার চর্চাকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষণ করবে আজ মঞ্চে উপবিষ্ট মাননীয় অতিথির কাছে এই বিনীত আবেদন রেখে গেলাম।

আজ সম্মান প্রাপ্তির পূন্যলগ্নে আশির্বাদ রাখবেন যেনো মঞ্চকে ভালোবেসে থিয়েটার এর প্রতি নিষ্ঠ থেকে এই দেশ ও জাতির সংকটে ও অর্জনে আমি ও আমার দল জীবন সংকেত পথ হাঁটতে পারি আরো অধিককাল।
ধন্যবাদ থিয়েটার। ধন্যবাদ সবাইকে

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: