শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি  » «   ইলিয়াস আলীর বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুলু, মেয়র আরিফ  » «   দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন  » «   একজন অভিজ্ঞ স্টাফ রিপোর্টার আবশ্যক  » «   গুজরাটে মোদী’র অগ্নিপরীক্ষা  » «   বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিস্তিন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত শতাধিক  » «   দেশের মানুষকে আন্ডারইস্টিমেট করবেন না: মির্জা ফখরুল  » «   ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ২০ বছর পূর্তি  » «   রেসিপিঃজলপাইয়ের টক-মিষ্টি আচার  » «   রসুন সবজি নাকি মসলা, জানতে আদালতে মামলা  » «   জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে প্রত্যাখ্যান  » «   পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের বার্ষিক সাধারণ সভা  » «   ভারত থেকে কয়লা আমদানী পুনরায় চালু  » «   বড়লেখায় গৃহবধূ হত্যা: স্বামীসহ গ্রেফতার ২  » «  

ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি

সংলাপ ডেস্ক ::
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। এদিন রণাঙ্গনের অবস্থা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্মিলিত মিত্রবাহিনীর আক্রমণে দিশেহারা হানাদার বাহিনী সূর্য ওঠার আগেই বিভিন্ন সীমান্ত ঘাঁটি থেকে পালাতে থাকে। আর স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভারত।
সেদিন ভারতের লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বিশাল বাধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মূলত ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। আসন্ন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের পরাজয়। বলা হয়ে থাকে, ভারতেও সে সময় ভারতের এই স্বীকৃতি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এতে মুক্তিযুদ্ধের গতি যেমন বগবান হয়, তেমনি রণযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি হানাদাররা। এর আগে ৪ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বাংলাদেশের পাশে একমাত্র ভারত সরকারই পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছিল।
৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে লেখা হয় ‘স্বীকৃতির তিলক বাংলাদেশের ললাটে। বাংলাদেশের আজ বিচলিত হওয়ার কিছু নাই। সূর্যোদয়কে যাহারা অস্বীকার করে, তাহারা অন্ধ মাত্র,
অস্বীকৃতির দৃষ্টিহীনতা সকালের রশ্মিজলকে মিথ্যা করিয়া দিতে পারে না।’
ইতিহাসের এই দিনে মিত্রবাহিনী আকাশ থেকে অবাধ গতিতে বিমান আক্রমণ চালায়। বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌবাহিনী সৃষ্টি করে নৌ-অবরোধ। এদিন মুক্তির আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সুনামগঞ্জ, যশোর, ফেনী ও চাঁদপুরের মুদাফ্ফরগঞ্জ ইউনিয়নে। পাকিস্তানি হায়েনাদের কবল থেকে মুক্ত হয় ওই চারটি এলাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ যুদ্ধ, রক্ত, নারীদের সম্ভ্রম আর ত্যাগের বিনিময়েই আসে ওই বিজয়। ‘জয় বাংলা’ সেস্নাগান মুখে সেদিন নানা বয়সের মানুষ মুক্তির স্বাদ উপভোগ করতে নেমে আসেন রাজপথে মুক্তির মিছিলে।
একাত্তরের এদিন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাক-ভারত যুদ্ধ বিরতি সংক্রান্ত মার্কিন প্রস্তাবের ওপর সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফা ভেটো দেয়। নিউজউইক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করে।
এদিন ভোর থেকেই পাক নবম ডিভিশনের পলায়ন পর্ব শুরু হয়। পালাবার পথে তারা রাস্তার ওপরের ব্রিজগুলো ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে। এদিকে লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম ও হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধে কুলিয়ে উঠতে না পেরে পিছু হটে বিকল্প অবস্থান নেয়। রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসেরনগর যৌথবাহিনীর পূর্ণ অধিকারে আসে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহরকে হানাদার মুক্ত করার জন্য মেজর মোতালেব, ক্যাপ্টেন যাদব, ক্যাপ্টেন রঘুনাথ ভাটনগরে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ পরিচালনার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে কয়েকটি ইউনিটে ভাগ করা হয়। ইউনিটগুলোকে জেলার হালুয়ারঘাট, ভাদেরটেক, হাছনগর, যোগীরগাঁও, মলি্লকপুর এবং এফ কোম্পানিকে বেরিগাঁও কৃষ্ণতলা অবস্থান করতে বলা হয়। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে সব মুক্তিযোদ্ধাকে একত্রিত করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুনামগঞ্জকে হানাদার ও রাজাকার মুক্ত করার জন্য সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেরিগাঁও গ্রামে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে। অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এ যুদ্ধে।
পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয় যশোরও। সেদিন বিকালে যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা। যশোরেই প্রথম উঠেছিল বিজয়ী বাংলাদেশের রক্ত সূর্য খচিত গাঢ় সবুজ পতাকা।
এছাড়াও দিনটিতে মুক্তিযোদ্ধারা ফেনী শহরকে হানাদার মুক্ত করার শপথ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। সকাল প্রায় ১০টার দিকে সাব কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ফেনী শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু কোথাও কোনো প্রতিরোধ নেই। বিনা বাধায় মুক্তিযোদ্ধারা ফেনীতে প্রবেশ করে। হানাদার মুক্ত হয় গোটাশহর। পাকসেনাদের আগের রাতে (৫ ডিসেম্বর) গোপনে ফেনী ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা তখনও কেউ জানত না।
চাঁদপুরের পূর্ব শেষ সীমান্তে কুমিল্লার শুরুতেই মুদাফ্ফরগঞ্জ ইউনিয়ন। ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশ বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠলেও এর ১০ দিন আগেই ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয় মুদাফ্ফরগঞ্জ। ওই এলাকার দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেন মুদাফ্ফরগঞ্জকে। ওইদিন ভোরেই পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যায় চাঁদপুরের দিকে। এরপর পুরো মুদাফ্ফরগঞ্জে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। কিন্তু এর ক’দিন পরই ১৩ ডিসেম্বর রাত তিনটায় এ আনন্দকে মস্নান করে দেয় এলাকার কিছু রাজাকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: