শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
ওসমানীনগরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি  » «   ইলিয়াস আলীর বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুলু, মেয়র আরিফ  » «   দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন  » «   একজন অভিজ্ঞ স্টাফ রিপোর্টার আবশ্যক  » «   গুজরাটে মোদী’র অগ্নিপরীক্ষা  » «   বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিস্তিন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত শতাধিক  » «   দেশের মানুষকে আন্ডারইস্টিমেট করবেন না: মির্জা ফখরুল  » «   ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ২০ বছর পূর্তি  » «   রেসিপিঃজলপাইয়ের টক-মিষ্টি আচার  » «   রসুন সবজি নাকি মসলা, জানতে আদালতে মামলা  » «   জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে প্রত্যাখ্যান  » «   পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের বার্ষিক সাধারণ সভা  » «   ভারত থেকে কয়লা আমদানী পুনরায় চালু  » «   বড়লেখায় গৃহবধূ হত্যা: স্বামীসহ গ্রেফতার ২  » «  

ফের চালের কেজি ৭০ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
বাজারে এসেছে নতুন চাল। সে হিসেবে চালের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা এখন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। কিছু কিছু চালের দাম ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে।
সূত্র বলছে, নতুন ধান পাওয়া যাচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা মণ দরে। এ দামে ধান কিনে লাভসহ সব খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু ৪৫ টাকা কেজি দরে বাজারে এখন চাল মিলছে না।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম এমন অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম।
তবে অপর একটি সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোনোভাবেই চালের দামের লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা দেখছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, চাল আমদানিতে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আবার যা আমাদানি করা হয়েছে এর বেশিরভাগই আতপ চাল। দেশের মানুষ আতপ চাল খেতে অবস্থ না হওয়ায় এ চালের প্রতি কারো আগ্রহ নেই। ফলে চালের বাজারের লাগাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজির সাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত।
নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে।
চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে নতুন চাল এসেছে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিনে চালের দাম দু’দফা বেড়েছে। কোনো কোনো ব্যাপারি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা করে দু’দফায় ১০০ টাকা, আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা করে দু’দফায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিনিকেট, মোটা সব ধরনের চাল আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, যারা চাল বানায় অর্থাৎ মিলাররা যদি দাম না কমায় তাহলে দাম বাড়তেই থাকবে। এখন সিজন, এ সময়ও ৬৫-৬৬ টাকায় চাল বিক্রির অর্থ আমরা মিল-মালিকরা চালের দাম কমাচ্ছি না। আর আমরা যে দাম কমাচ্ছি না এর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারছি না। আমরা ব্যবসা করার জন্য এসেছি। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তারা যদি বসে থাকেন, আমি তো সুযোগ নেবই। আমি এক টাকার জিনিস ২০ টাকা ধরব।
তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে। কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ভারতে যে চালের দাম ৪৫ টাকা হয়েছিল, এখন তা ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: