বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাণিজ্য : ৯ এনজিওকে তলব  » «   ত্রিদেশীয় সিরিজঃ জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু বাংলাদেশের  » «   জগন্নাথপুরে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার  » «   রাজনগরে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  » «   বানিয়াচংয়ে মাইক্রোবাস-জিপ সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন পাশ হবে শীঘ্রই  » «   সিলেটে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৪ পুলিশ কনস্টেবল  » «   ডিপথেরিয়া মোকাবেলায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিশুকে প্রতিষেধক দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   সিলেট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনঃ সভাপতি লালা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ  » «   অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপঃ নামিবিয়াকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের দামাল  » «   তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা  » «   ওসমানী হাসপাতালঃ আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা  » «   সারাদেশে ইন্টারনেটের রেট এক হওয়া উচিতঃ মোস্তাফা জব্বার  » «   স্কুলের শিশুরা পাবে দুপুরের খাবার  » «  

মৌ.বাজারে ছাত্রলীগের দুই কর্মী খুনের মূল আসামিরা ধরা পড়েনি ২২ দিনেও

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দুই কর্মী খুনের ঘটনায় ২২দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা ধরা পড়েনি। এতে নিহতদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত কলেজছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী শাবাবের পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে দেখা করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে নিহত অপর স্কুলছাত্র নাহিদ আহমদ মাহির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা হয়নি। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের ফটকের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আলী এবং মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদ আহমদ মাহি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচ জনের ছবি দিয়ে স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্কে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার দুদিন পর ৯ ডিসেম্বর নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করে। তবে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী আনিসুল ইসলাম তুষার এখনও গ্রেফতার হয়নি। ঘটনার ২২ দিনেও মূল আসামিরা ধরা না পড়ায় হতাশ নিহতদের পরিবার। শাবাবের মা সেলিনা ও বাবা আবু বকর সিদ্দিকী ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে আসামিদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে বছরখানেক ধরে মামলার এক নম্বর আসামি ছাত্রলীগ কর্মী আনিসুল ইসলাম তুষারের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী শাবাবের বিরোধ চলছিল। স্কুল কমিটি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।
মোহাম্মদ আলী শাবাবের মা বলেন, ‘স্কুলের বেশ কয়েকজন ছেলে দল বেঁধে শাবাবের কাছে আসত দেখতাম। শুনেছি ঘটনার এক সপ্তাহ আগে তুষারের পক্ষের এক ছেলে মার খেয়েছে। আপস-মীমাংসার জন্য শাবাবকে সেদিন (ঘটনার দিন) ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।’
নিহত স্কুলছাত্র নাহিদ আহমদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মামলা হয়নি। নাহিদের মামা গোলাম ইমরান আলী বলেন, ‘এখনও মামলা করিনি। তা ছাড়া দুই মামলার আসামি তো একই। সবাই আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু মূল আসামিরা ধরা পড়ছে না। আমরা হতাশ। আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে মামলা করবো। নাহিদের বাবা-মা মানসিকভাবে অসুস্থ।’
এদিকে, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। কিন্তু নাহিদ আহমদ স্কুলছাত্র, ছাত্রলীগের কর্মী না।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি এই হত্যাকা-ের পর বলেন, ‘নিহতরা ছাত্রলীগের কোনও কমিটির নেতা বা সদস্য নয়। হওয়ার কথাও নয়। কারণ, তারা সরকারি কলেজ ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। সেখানে ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহাম্মদ জানান, নিহত নাহিদ ঘটনার ৪/৫ দিন আগে ছাত্রলীগ কর্মী তুষারের লোক এজাহারভুক্ত আসামি ফাহিম মুনতাসিরকে মারধর করে। এ বিষয়টি মীমাংসা করতে তারা সেদিন মাঠের মধ্যে বসে। এরপর ঘটনাটি ঘটে। দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।’
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেন, ‘খুব শিগগিরই মূল আসামি ধরা পড়বে। ধরা পড়লেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: