বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাণিজ্য : ৯ এনজিওকে তলব  » «   ত্রিদেশীয় সিরিজঃ জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু বাংলাদেশের  » «   জগন্নাথপুরে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার  » «   রাজনগরে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  » «   বানিয়াচংয়ে মাইক্রোবাস-জিপ সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন পাশ হবে শীঘ্রই  » «   সিলেটে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৪ পুলিশ কনস্টেবল  » «   ডিপথেরিয়া মোকাবেলায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিশুকে প্রতিষেধক দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   সিলেট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনঃ সভাপতি লালা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ  » «   অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপঃ নামিবিয়াকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের দামাল  » «   তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা  » «   ওসমানী হাসপাতালঃ আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা  » «   সারাদেশে ইন্টারনেটের রেট এক হওয়া উচিতঃ মোস্তাফা জব্বার  » «   স্কুলের শিশুরা পাবে দুপুরের খাবার  » «  

বাইক্কাবিলে শীতের পরিযায়ী পাখি সিঁথিহাঁস

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
চারদিকে জনহীন। এ শূন্যতায় সময় মিলিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ জলচর পাখিদের ডাক বাইক্কাবিলের বহু পুরনো সৌন্দর্য। আপন মুগ্ধতায় রাঙানো। এই জলজ পাখির সৌন্দর্যে রাঙিয়ে ওঠে আগত পর্যটকদের হৃদয়ও।
এরই মধ্যে দীর্ঘ পরিয়ান শেষে বাইক্কাবিলে এসে গেছে ‘ইউরেশীয়-সিঁথিহাঁস’। অন্য পরিযায়ী পাখির মতো এ হাঁসেরাও প্রতি বছরের মতো উড়ন্ত পথিক হয়ে চলে এসেছে। শুধু এ হাঁসই নয়, শীতের মাত্রা বাড়তেই বাইক্কাবিল এখন পরিযায়ী পাখিতে মুখরিত।
সম্প্রতি বাইক্কাবিলের পাখি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রেখে বিলের দিকে নিশানা নিক্ষেপে করতেই খুঁজে পাওয়া যায় ইউরেশীয়-সিঁথিহাঁস। দূরবীনে চোখ রেখে চলে আগত পর্যটকদের পাখিদের দেখার বিষয়টি বাড়তি ভালোলাগার জন্ম দেয়।
শীতের হাত থেকে রক্ষার জন্য উত্তরের হিমপ্রধান অঞ্চলগুলো থেকে অনেক প্রজাতির পাখিই পরিযায়ী হয়। পাখিদের মধ্যে সাধারণত তিন ধরনের পরিযান দেখা যায়। এগুলো হলো- স্বল্পদৈর্ঘ্য পরিযান, মধ্যদৈর্ঘ্য পরিযান এবং দীর্ঘদৈর্ঘ্য পরিযান। সিঁথিহাঁস দীর্ঘদৈর্ঘ্য পরিযানের পাখি। এরা হাজার হাজার মাইল দূরত্বের পথ অনায়াসে উড়ে যেতে পারে। ক্লান্তিহীন ও বিশ্বস্ত পাখা তাদের এভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর ধরে। পরিযায়ী সব হাঁসের মধ্যে একটি বিশেষ হাঁসকে চিনতে তেমন একটা অসুবিধা হয় না। কারণ হাঁসটির মাথা রাঙানো রয়েছে হালকা ইটহলুদ রং দিয়ে। সেই হাঁসটির নাম ইউরেশীয় সিঁথিহাঁস বা লালশির। এদের ইংরেজি নাম Eurasian Wigeon এবং বৈজ্ঞানিক নাম Mareca penelope। এরা মাঝারি আকৃতির হাঁসের মধ্যে বড় এবং মিঠাপানির জলাভূমির অস্থায়ী বাসিন্দা।
পাখি-পর্যবেক্ষক ও আলোকচিত্রী ওমর শাহাদাত বলেন, শীতে বাংলাদেশে পরিযায়ী হিসেবে যে প্রায় ত্রিশ প্রজাতির হাঁস আসে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখা যায় এই ইউরেশীয় সিঁথিহাঁস। এরা আমাদের দেশের সুলভ পরিযায়ী হাঁস। এরা বেশ দৃষ্টিনন্দন। পুরুষহাঁসের মাথায় হলুদ রঙের সিঁথি আছে বলেই এ নামকরণের কারণ। মিশ্র হাঁসের ঝাঁক থেকে সহজেই আলাদা করা যায় এদের। শীতকালে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের উপকূলসহ নদী ও হাওরে দেখা যায়।
তিনি আর বলেন, ‘সিঁথিহাঁসের দৈর্ঘ্য ৫০ সেমি এবং ওজন ৬৭০ গ্রাম। এরা ধূসর নীলচে ঠোঁটওয়ালা মাঝারি আকারের হাঁস। পুরুষ ও মেয়ে হাঁসের চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। প্রজননকালে পুরুষ হাঁসের স্পষ্ট হলুদ কপাল হয়। মাথা তামেটে, ডানার নিচের অংশ ধূসর ও লেজের নিচে কালো থাকে। লালচে বাদামি মেয়েহাঁসের ডানার নিচে পিতাভ। পেট সাদা ও ডানা খয়েরি। এরা সাধারণত অগভীর জলাশয় যেমন হ্রদ, নদী, হাওর, বিলে বিচরণ করে।
জলাশয়ের পাড়ে হেঁটে অথবা অগভীর জলে মাথা ডুবিয়ে খাবার খোঁজে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ভেজা ঘাস, জলজ উদ্ভিদ, পোকা-মাকড়, লার্ভা ইত্যাদি। ইউরোপ হয়ে আফ্রিকার উত্তরাংশ ও এশিয়া পর্যন্ত এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি। এশিয়া মহাদেশে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, চীন ও ফিলিপাইনে পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
পরিযায়ীদের আগমন সম্পর্কে বন্যপ্রাণী গবেষক ওমর শাহাদাত বলেন, প্রতিবছর শীতে খাদ্য ও আবাসের জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এরা আমাদের জলাশয়গুলোতে আসে। এসে বরং উপকারই করে আমাদের। এদের বিষ্ঠা জমির উবর্বতা বাড়ায়। পানিতে সাঁতার কাটার ফলে মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। পর্যটন শিল্পের প্রসারেও ভূমিকা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: