মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «   আদালতকে খালেদা জিয়া : ‘আমার অবস্থা খুবই খারাপ’  » «  

প্রসঙ্গঃ থার্টি ফার্স্ট এর রজনী

মিসবাহ মাহীন
জনপ্রিয় টিভি / মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ অনেক সুশীল যারা দেশ, মা, জন্মভূমি ইত্যাদি বিশেষ শব্দের প্রতি অতি দুর্বল তাদের অনেককেই ৩১শে ডিসেম্বরের রজনীতে মাতাল অবস্থায় পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। দেশের “চেতনা” বিজনেসের “সৌল ডিস্ট্রিবিউটার” হিসেবে যাদের চিনি, তাদের অনেকেই শুধু মাত্র থার্টি ফার্স্ট এর রজনী “পাশবিক”ভাবে উদযাপন করতে কত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তা ভাবনার বাহিরে।
.
একজন মানুষ একই সাথে দেশ বলতে অজ্ঞান আবার ঠিক সেই একই ব্যক্তি “ভিনদেশী” সংস্কৃতি উদযাপন এর দায়িত্ব নিয়েছেন – এ ধরণের দ্বৈত সত্ত্বা দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলাও পাপ, কারণ মিডিয়া আমাদের যখন যেভাবে চলতে শিখিয়েছে আমাদের সেভাবে চলতে হচ্ছে।
.
বাঙ্গালীদের এই “কনফিউজড” আইডেন্টিটির কারণ যতটা না “শাইতানের ওয়াসওয়াসা” রোগ তার চেয়েও ঢের বেশি মুসলিম হিসেবে তার ইতিহাস না জানা এবং শৈশব থেকেই “অদ্ভুত” একটা পরিবেশে বেড়ে ওঠা। আমরা কী দেখি? বয়স চার – পাঁচ হলে সন্তানের জন্যে সকাল বেলা “হুজুর” চলে আসেন। আলিফ, বা, তা, সা পড়িয়ে চলে যান। এরপর আসেন গানের শিক্ষক, নাচের শিক্ষক, আর্টের শিক্ষক ইত্যাদি। তাকে ছোট থেকেই কবিতা, উপন্যাসে শেখানো হয় প্রকৃতি প্রেমসহ যাবতীয় প্রেমের উপাখ্যান। এতকিছু মাঝে কুর’আন আর তার অন্তরে জায়গা করতে পারে না। কারণ, আল্লাহ কোন নাফরমানকে ইলমের নূর দেন না।
.
এভাবে থার্টি ফার্স্ট, ভ্যালেন্টাইন্স, জাতীয় দিবসসমূহ কেবল জৈবিক চাহিদা মেটানোর একটা উপলক্ষ্যে পরিণত হয়। তাছাড়া নামের শেষে আহমেদ, মুস্তফা, ইসলাম, ইকবাল, ইত্যাদি রেখে ইসলামীয় ধারাটাও অল্প বিস্তর বজায় রাখার চেষ্টা হয়।
.
আল্লাহর কাছে মনোনীত দ্বীন যেমন ইসলাম তেমন মনোনীত ইবাদাতের ধরণসমূহও ইসলাম থেকেই আসতে হবে। মুসলিম হিসেবে আমরা যেমন পুজো দিতে পারবো না, হৌলিতে গিয়ে রঙের খেলায় মেতে উঠতে পারবো নানা, মেরি ক্রিসমাস বলতে পারবো না তেমনি থার্টি ফার্স্ট, পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি, ভ্যালেন্টাইন্স, বেদীতে গিয়ে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়ে শিরকের কাজেও যেতে পারবো না।
.
এই কাজগুলোতে যারা “ডালভাতের” মত বানিয়ে ফেলেছেন। জীবনকে সহজ করার জন্যে এসবে প্রবেশ করে ফেলেছেন – কেবল আল্লাহকে ভালোবেসে এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটা। এবং “ঈমানের” পরীক্ষাটা এখানেই। যে আল্লাহকে জীবনে দেখেন নি এমনকি অনুভব করেন নি, তার জন্যে এই “খুব আনন্দের” সময়গুলো বিসর্জন দেওয়া মানুষগুলোকে নিশ্চয় আল্লাহ আশাহত করবেন না।
.
বিশ্বাস না হলে আপনি খবর নিয়ে দেখুন। চারপাশে যেই মানুষগুলো হারাম আর আল্লাহর অবাধ্যতায় নিবেদিত প্রাণ তাদের সময়গুলো কেমন হতাশায় ভরপুর। আগের জীবনের করে আসা খারাপ কাজগুলোর জন্যে এখন কি পরিমাণ মানসিক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। বেদনা দূর করতে প্রাণখুলে গান শুনছে, জীবনঘনিষ্ঠ আর্টফিল্ম দেখছে, আধ্যাত্মিক চেতনার জন্যে লালনের আখড়ায় গিয়ে বায়াত নিয়ে আসছে – কী করছে না তারা? অথচ দেখুন প্রতিমুহূর্তে কষ্টে অন্তর পুড়ে যাচ্ছে। দুনিয়ার জীবনেই আল্লাহ কিভাবে আযাবের ভেতর রেখেছেন।
.
একজন মুমিনের জীবনেও এই সময়গুলো আসে, তবে যেহেতু এই বিশ্বাস মনে থাকে যে আল্লাহ এই কষ্টের সময়গুলোর উত্তম প্রতিদান দিবেন সেহেতু বুক থেকে কষ্ট বের করে দেওয়ার একটা সেইফ এক্সিট ডোর থাকে। আর আল্লাহর স্মরণেই তো অন্তর প্রশান্ত হয়। আপনি যতই সেখানে দুনিয়াবী আনন্দ দিন, সেই জায়গা কখনই পূরণ হওয়ার নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: