বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাণিজ্য : ৯ এনজিওকে তলব  » «   ত্রিদেশীয় সিরিজঃ জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু বাংলাদেশের  » «   জগন্নাথপুরে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার  » «   রাজনগরে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  » «   বানিয়াচংয়ে মাইক্রোবাস-জিপ সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন পাশ হবে শীঘ্রই  » «   সিলেটে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৪ পুলিশ কনস্টেবল  » «   ডিপথেরিয়া মোকাবেলায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিশুকে প্রতিষেধক দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   সিলেট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনঃ সভাপতি লালা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ  » «   অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপঃ নামিবিয়াকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের দামাল  » «   তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা  » «   ওসমানী হাসপাতালঃ আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা  » «   সারাদেশে ইন্টারনেটের রেট এক হওয়া উচিতঃ মোস্তাফা জব্বার  » «   বাহুবলে আবারো সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ দিলেন এক ব্যক্তি  » «   স্কুলের শিশুরা পাবে দুপুরের খাবার  » «  

পরীক্ষার ফলাফলঃ গলদগুলো শনাক্ত করে সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি পরীক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট ( জেডিসি) পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হলো সম্প্রতি। যদিও এবার খুদে শিক্ষার্থীদের চারটি পরীক্ষার ফলই নি¤œমুখী, পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ছন্দপতন ঘটেছে, তবুও বলতে হবে, এতে হতাশার কিছুই নেই। কারণ পরীক্ষার ফলে শিক্ষার প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। গলদগুলো শনাক্ত করে যথাযথ সমাধান-উদ্যোগ নিলে কাক্সিক্ষত উন্নতি ঘটবে। যারা কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য দেখিয়েছে আমরা তাদের সবাইকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। আমাদের বিশ্বাস, খুদে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আগামিতে আরো বেশি সাফল্য লাভে প্রেরণা যোগাবে। যদি রাজনৈতিক হানাহানিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পায় তাহলে তারা আগামিতেও সাফল্যের রেকর্ড গড়তে পারবে, সন্দেহ নেই।
ফলাফল বিশে-ষণে দেখা যাচ্ছে, পিইসি, ইবতেদায়ি, জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে। শতভাগ উত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। বেড়েছে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। পাশের হার এবং জিপিএ ৫ দুটোতেই মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা পিছিয়ে গেছে। মোটকথা গুরুত্বপূর্ণ সব সূচকেই ফলের অবনতি ঘটেছে এবার।
পরীক্ষার ফলাফলের সব সূচকে খারাপ হওয়ার পেছনে প্রশ্নপত্রের ধরণ অদল-বদল, গণিত ও ইংরেজির মতো কঠিন বিষয়ে পাসের হার কম, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে কড়াভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের উদারনীতি পরিহার, ঢালাওভাবে নম্বর না দেয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়নে বেদুর (পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট) তত্ত্বাবধান, পাসের হার কমলেও ‘গ্রেস’ নম্বর না দেয়া সহ নানা কারণ আছে। উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে পাসের হার হু হু করে বাড়ছিল। খাতা দেখায় ‘উদারনীতি’ই ছিল এর মূল কারণ। বিগত বছরগুলোতে বোর্ড থেকেই শিক্ষকদের সহানুভূতির সঙ্গে নম্বর দিতে বলা হতো। কিন্তু এবার শিক্ষকদের খাতা দেওয়ার সময় যথাযথভাবে দেখার কথা বলে দেওয়া হয়। ফলে যে যতটুকু লিখেছে তাকে ততটুকুই নম্বর দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষকভেদে এই নম্বর কমবেশি হয়ে থাকতে পারে। আবার বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব, শহর ও মফস্বলের মধ্যে সুযোগ-সুবিধাগত বৈষম্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও নজরদারীর বিষয়টি উপেক্ষিত থাকাসহ আরো নানা কারণ আছে এবারের ফল বিপর্যয়ের পেছনে। এ চিত্রের অবসান ঘটাতে চাইলে কারণ শনাক্ত করে প্রতিবিধান উদ্যোগ নিতে হবে দ্রুত। এক সময়ে কম পাশ করতো বলে এখন বেশি পাশ করবে না, তা যুক্তি হতে পারে না। বরং শিক্ষার মান বাড়িয়ে এবং শিক্ষার সব সুযোগ নিশ্চিত করে কীভাবে পাশের হার শতভাগ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিচারদের দ্বারা পাঠদানের ব্যবস্থা হলে, দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠাবান মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগদান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষা মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি পরীক্ষার ফলও দিন দিন ভালোর দিকে যাবে। আর এখন যেহেতু সৃজনশীলতার যুগ, সেহেতু সারা দেশের শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধতির বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত। পাশাপাশি ভালো পড়ালেখা ও পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফলের জন্যে শান্তিপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশও জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীরা জিম্মি হয়ে থাকলে কখনো শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ হবে না, বিস্তার হবে না মানসম্মত শিক্ষা, আর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। আমাদের সবারই মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে দ্রুত বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশকে উন্নত দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যেতে শিক্ষাই পালন করবে মূল ভূমিকা। আজ আমরা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর হয়েছি, সে স্বপ্ন পূরণ করবে নতুন প্রজন্ম। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবেশে অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেদের আলোকিত মানুষ তথা সুনাগরিকে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সর্বদা নির্বিঘেœ পড়াশোনা করতে পারে, পরীক্ষা দিতে পারে, সে বিষয়ে দেশের সকলকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: