বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বাণিজ্য : ৯ এনজিওকে তলব  » «   ত্রিদেশীয় সিরিজঃ জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু বাংলাদেশের  » «   জগন্নাথপুরে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার  » «   রাজনগরে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  » «   বানিয়াচংয়ে মাইক্রোবাস-জিপ সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন পাশ হবে শীঘ্রই  » «   সিলেটে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৪ পুলিশ কনস্টেবল  » «   ডিপথেরিয়া মোকাবেলায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিশুকে প্রতিষেধক দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   সিলেট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনঃ সভাপতি লালা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ  » «   অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপঃ নামিবিয়াকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের দামাল  » «   তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা  » «   ওসমানী হাসপাতালঃ আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা  » «   সারাদেশে ইন্টারনেটের রেট এক হওয়া উচিতঃ মোস্তাফা জব্বার  » «   স্কুলের শিশুরা পাবে দুপুরের খাবার  » «  

ফলো দা মানি

আ সি ফ আ দ না ন
ব্রুসঃ
রাইমাররা বিয়ে করেছিল অল্প বয়সে। প্রেগনেন্সির ব্যাপারে যখন জানতে পারলো, তখনো ওরা বিয়ে করেনি। জ্যানেটের বয়স ছিল ১৯, রনাল্ডের ২০। জ্যানেটের সবসময় শখ ছিল যমজ ছেলের যমজ দুই ভাই ব্রুস আর ব্রায়ানের জন্ম ছিল তাই স্বপ্ন সত্য হবার মতো। খুব তাড়াতাড়ি রনাল্ডের দুটো প্রমোশন হল। ছোট্ট এক রুমের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ওরা মোটামুটি বড়সড় একটা ঘরে আসলো। রাইমারদের জীবন সুন্দর ছিল। গৃহিণী মা, পরিশ্রমী বাবা। আর ঘর আলো করে রাখা যমজ দু’ই ভাই। পিকচার পারফেক্ট।
ছন্দপতন হল ছ’মাসের মাথায়। ডায়াপার বদলানোর সময় ব্যাপারটা প্রথম চোখে পড়ে। জ্যানেট ভেবেছিল ভেজা ডায়াপারের কারণেই হয়তো ওরা কাঁদতো। কিন্তু দেখা গেল ডায়াপার ছাড়া রাখলেও কান্না থামছে না। প্রগ্রাবের সময় সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তার জানালেন ওরা দুজনেই ফিমোসিসে ভুগছে। ফিমোসিস গুরুতর কোন সমস্যা না। মোটামুটি কমন। ছেলে বাচ্চারা ফিমোসিসের কারণে ঠিক মতো প্রগ্রাব করতে পারে না। খুব বেশি চিন্তিত হবার প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ, ক্ষেত্রে ফিমোসিস আপনাআপনিই ঠিক হয়ে যায় তবে সেইফ সাইডে থাকার জন্য সারকামসিশান, অর্থাৎ খৎনা করানোর পরামর্শ দিলেন ডাক্তার। যমজ দু ভাইয়ের ৭ মাস বয়সে তাদের সারকামসিশানের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
সারকামসিশান বা খৎনা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া। ৯৯% চেয়েও বেশি ক্ষেত্রে এতে বড় ধরণের কোন ঝামেলা দেখা যায় না। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বাঁশের চিমটা, ক্ষুর আর কাঁচি দিয়েই খোলা আকাশের নিচে পিড়িতে বসিয়ে সুন্নাতে খৎনা করা হয়। কয়েক মিনিটের মামলা। পশ্চিমা বিশ্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়। তবে এয়ার কন্ডিশনড হসপিটালের অপারেশান থিয়েটারে, স্টেরিয়ালাইযড ক্ল্যাম্প আর স্ক্যালপেল দিয়ে। ব্রুস আর ব্রায়ানের ক্ষেত্রেও যদি এমনটা হত তাহলে হয়তো আমাদের এ গল্প অন্য কোন ভাবে শুরু করতে হতো। কিন্তু ব্রুস আর ব্রায়ানের অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ৪৬ বছর বয়েসী জেনারেল প্র্যাক্টিশানার ডাঃ য’ন মারি স্ক্যালপ্যালের বদলে সেই দিন বোভি কটারি মেশিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। এ ডিভাইসে একটি ছোট জেনারেটরের মাধ্যমে একটি সূচের মতো ইলেক্ট্রোডের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। বিদ্যুতের প্রবাহের কারণে ইলেক্ট্রোডে যে তাপ উৎপন্ন হয় তার সাহায্যে “কাটা” হয়। একটা ছুরি বা স্ক্যালপেলের সাথে এ ডিভাইসের পার্থক্য হল, এক্ষেত্রে মূলত পোড়ানোর মাধ্যমে “কাঁটা” হয়। এ পদ্ধতির সুবিধা হল তাপের কারণে সৃষ্ট হওয়া ক্ষতের প্রান্তগুলো পুড়ে যেতে থাকে। যার ফলে রক্তনালীগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং বি-ডিং তুলনামূলক ভাবে কম হয়। পদ্ধতিটিকে ইলেক্ট্রো-কটারাইযেশান (বষবপঃৎড়পধঁঃবৎু) বলা হয়। মূলত আঁচিল জাতীয় গ্রোথ ফেলে দেয়ার জন্য ইলেক্ট্রোকটারাইযেশান বেশ কার্যকরী মনে করা হয়। কিন্তু সারকামসিশান বা খৎনার ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোকটারাইযেশান ব্যবহার অপ্রয়োজনীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বিপদজনক।
১৯৬৬ –র এপ্রিলের ঐ সকালে ডাঃ যন মারির হাতের ডিভাইসটি বেশ কয়েকবার ম্যালফাঙ্কশান করে। প্রাথমিকভাবে ইলেক্ট্রো-কটারি মেশিনের হেমোস্ট্যাট ডায়াল ‘মিনিমামে’ সেট করা হয়। কিন্তু প্রথমবার ডাঃ যন মারি চামড়া বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হন। হেমোস্ট্যাট ডায়াল বেশ অনেকদূর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তৃতীয় বার ব্রুসের যৌনাঙ্গের চামড়ার সাথে ইলেক্ট্রোড স্পর্শ করানোর সাথে সাথে রুমের সবাই মাংস পোড়ার শব্দ ও গন্ধ পেলো। ডাক্তাররা বুঝতে পারলেন খুব বড় ধরণের একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। হসপিটালের বেডে ঘুমন্ত ব্রুসের দু’পায়ের মাঝখানে জ্যানেট আর রনাল্ড পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া সুতোর মতো কিছু একটা দেখতে পেল। পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুসের সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়া লিঙ্গ ধীরে ক্ষয় হতে হতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ডাক্তাররা ব্রায়ানের উপর সার্জারি না করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য আরো অনেকের মতোই ব্রায়ানের ফিমোসিসের সমস্যা আপনাআপনিই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ব্রুসের অপরিমেয় ক্ষতি হয়ে গেল। ১৯৬৬ তে প্লাস্টিক সার্জারি ছিল একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। রি-কনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে ভুল শুধরে নেয়ারও কোন উপায় ছিলো না।
কীভাবে কী হয়ে গেল, জ্যানেট আর রনাল্ড বুঝতে পারছিলো না। যেন মুহূর্তের মাঝে এক ঝড় এসে সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে ফেললো। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে বসলে অনেকে সময় জ্যানেটের কাছে অবাস্তব মনে হতো। ব্রুস আর কোনদিনই আর দশটা ছেলের মতো হতে পারবে না, এ চিন্তাটা ভেতরে থেকে ওদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো। ওরা নিজেদের দোষী ভাবছিল।
ডঃ জন মানিকে রাইমাররা প্রথম দেখে টিভি পর্দায়। দুর্ঘটনার প্রায় দশ মাস পর। মধ্য ফেব্রুয়ারির এক সন্ধ্যায়। ঞযরং ঐড়ঁৎ ঐধং ঝবাবহ উধুং নামের ক্যানেইডিয়ান ব্রডক্যাস্টিং কর্পোরেশানের জনপ্রিয় টক শো-তে। কালো মোটা ফ্রেমের চশমার পেছনের শান্ত চোখ দুটোতে বুদ্ধির ছাপ। ডানদিকে সিঁথি করা চুল পরিপাটি করে আঁচড়ানো। নীরবতা এবং কথা বলার সময় নিয়ন্ত্রিত আত্মবিশ্বাস ভেতর থেকে ঠিকরে বের হয়। বুদ্ধিমান, ক্যারিশম্যাটিক। মানুষটা খুব ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলেন। দেখে মনে হয় তার উপর আস্থা রাখা যায়।সাইকলোজিস্ট, পিএইচডি, হার্ভার্ড। জ্যানেট আর রনাল্ড রাইমার মনে মনে এমন একজন মানুষকেই খুঁজছিলো। অতিথি হয়ে আসা জন মানি বাল্টিমোরে খোলা জনস হপকিন্স হসপিটালের নতুন একটি ক্লিনিক নিয়ে কথা বলছিলেন। মানির উদ্যোগে খোলা এ ক্লিনিকের উদ্দেশ্য ছিল সার্জারির মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হিজড়া বা ঐবৎসধঢ়যৎড়ফরঃব/ওহঃবৎংবী নারী ও পুরুষদের লিঙ্গ পরিবর্তন করা। এটা ছিল অ্যামেরিকাতে এধরনের প্রথম ক্লিনিক। মানির গবেষণা ছিল মূলত এ বিষয় নিয়েই। রাইমাররা টিভির পর্দায় ডঃ-কে বলতে শুনলেন – “আমাদের কাছে গুরুতর মনে হলেও যেসব মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন, একটা সমাধানের জন্য মরিয়া হয়ে আছে, তাদের জন্য এধরনের সার্জারি সারকামসিশানের চেয়ে এমন আলাদা কিছু না।”
নিঃসন্দেহে ডঃ মানির সাক্ষাৎকার অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং ছিল, তবে রাইমারদের জন্য হয়তো পুরো ব্যাপারটা বিচ্ছিন্নভাবে কৌতূহলজনক একটা স্মৃতি হিসেবেই থাকতো। কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষ দিকে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন দর্শক ডঃ মানিকে এমন একটি প্রশ্ন করে যা রাইমারদের মনোযোগ দিতে বাধ্য করে। প্রশ্নটি ছিল অসম্পূর্ণ যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের সম্ভাব্য চিকিৎসার ব্যাপারে। জবাবে মানি বলেন, জনস হপকিন্স ক্লিনিকে সার্জারি এবং হরমোন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এধরনের শিশুদের নারী বা পুরুষে পরিণত করা সম্ভব। ডঃ মানি বলছিলেন-কোন শিশু নারী বা পুরুষ হিসেবে জন্ম নিলো কি না, সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। শৈশবে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তন করা সম্ভব। কোন ঝামেলা ছাড়াই ছেলে শিশুকে মেয়ে আর মেয়ে শিশুকে ছেলে হিসেবে বড় করা সম্ভব। রাইমাররা ঠিক করলো ওরা ভুল শুধরে নেয়ার চেষ্টা করবে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্র জ্যানেট ডঃ মানিকে চিঠি লিখতে বসলো। কয়েক মাসের মধ্যে ওরা বাল্টিমোরে জন মানির অফিসে হাজির হল।

ব্রেন্ডাঃ
ব্রুসের কেইস হিস্ট্রি শোনার পর, ওর ফিযিকাল চেকআপের পর জন মানি পরামর্শ দিলেন ব্রুসকে মেয়ে হিসেবে বড় করার । প্রথমে পধংঃৎধঃরড়হ এর মাধ্যমে ব্রুসের শরীর থেকে পুরুষ যৌনাঙ্গের অবশিষ্ট অংশ বাদ দেয়া হবে। কৈশোরের শুরুতে হরমোন ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। আর ট্রিটমেন্টের শেষ পর্যায়ে সার্জারি মাধ্যমে ওর শরীরে কৃত্রিম যোনি স্থাপন করা হবে। ও কখনো মা- হতে পারবে না, কিন্তু একজন সাধারণ নারীর মতো যৌন জীবন যাপন করতে পারবে। একজন অসম্পূর্ণ পুরুষের বদলে ও একজন পরিপূর্ণ নারী হতে পারবে। ডঃ মানি রাইমারদের অভয় দিলেন, প্রথম শোনায় যতোটা গুরুতর মনে হয় আসলে ব্যাপারটা তেমন কিছুই না। একজন মানুষ পুরুষ নাকি নারী এটা পাথরে লেখা কিছু না। জন্মসূত্রে একজন মানুষ নারী বা পুরুষ হয়ে জন্মায় না। বরং পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে একজন মানুষ ‘পুরুষ’ অথবা ‘নারী’ হিসেবে বেড়ে ওঠেন। প্রকৃতি না, পরিবেশ একজন মানুষকে ‘পুরুষ’ অথবা ‘নারী’ বানায়। সুতরাং কেউ কোন ধরণের শরীর নিয়ে জন্মাচ্ছেন তার চাইতে মানসিকভাবে কোন লৈঙ্গিক পরিচয় (এবহফবৎ ওফবহঃরঃু/এবহফবৎ জড়ষব) সে গ্রহণ করছে, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের প্রথম দুই বছর একজন মানুষের লৈঙ্গিক পরিচয় ফ্লুয়িড বা পরিবর্তনশীল থাকে। এসময়ের মধ্যে একজন মানুষকে ঠিক কীভাবে বড় করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে সে নিজেকে নারী হিসেবে চিনবে নাকি পুরুষ হিসেবে। একই কথা খাটে যৌনতার ক্ষেত্রে। কে নারীর প্রতি আর কে পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, এটা পারিপার্শ্বিকতা আর পরিবেশ ঠিক করে দেয়। প্রকৃতি না। তাই ব্রুসকে মেয়ে হিসেবে বড় করা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে হবে, ব্রুস যেন সবসময় নিজেকে একজন মেয়ে হিসেবে চেনে।
ডঃ মানির তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, তীব্র আত্মবিশ্বাস আর ক্যারিযমার প্রভাব তো ছিলই, সাথে আরো ছিল জনস হপকিন্স আর স্টেইট অফ দি আর্ট ট্রিটমেন্টের নিশ্চয়তা। বিশ্ববিখ্যাত গবেষক ব্যক্তিগতভাবে ব্রুসের কেইস হ্যান্ডেল করছেন, ব্রুস সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসার নিশ্চয়তা পাচ্ছে। মানির কথা না শোনার কোন কারণ উইনিপেগের ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা রনাল্ড আর জ্যানেটের ছিল না। রাইমার দম্পতি যে ব্যাপারটা জানতো না তা হল, যা কিছু জন মানি তাদের বলেছিল তার পুরোটুকুই ছিল অনুমান। অপ্রমাণিত। ডঃ মানি হিজড়াদের উপর করা কিছু অপারেশানের ভিত্তিতে এই উপসংহার টানছিলেন যে স্বাভাবিক অবস্থায় জন্ম নেওয়া একজন ছেলে শিশুকে কোন জটিলতা ছাড়াই মেয়ে হিসেবে বড় করা সম্ভব। এ উপসংহারের মূল ভিত্তি ছিল তার এই বিশ্বাস যে লৈঙ্গিক পরিচয় ও যৌনতা দুটোই পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট নির্ভর। প্রাকৃতিক ভাবে নির্ধারিত, অপরিবর্তনীয় কোন বিষয় না। এটা কেবল হিজড়াদের জন্য না, বরং সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন ধরে এ মত প্রচার করলেও বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণের কোন সুযোগ মানি পাচ্ছিলেন না। কারণ কোন বাবা-মাই সুস্থ-স্বাভাবিক সন্তানের ওপর এধরনের পরীক্ষা করার অনুমতি দেবে না। ব্রুস ছিল তাই জন মানির হাইপোথিসিস প্রমাণের পারফেক্ট টেস্ট সাবজেক্ট। দু বছরের কম বয়স। স্বাভাবিক ছেলে সন্তান, দুর্ঘটনার কারণে যার যৌনাঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে। এবং ব্রুসের ছিল একজন আইডেন্টিকাল টুইন। অর্থাৎ বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ে টেস্ট সাবজেক্ট ব্রুসকে, স্বাভাবিক ব্রায়ানের সাথে তুলনা করার সুযোগ ছিল। জন মানির দেওয়া ট্রিটমেন্ট ছিল বিপর্যস্ত রাইমার দম্পতির খড়কুটো ধরে বাচার চেষ্টা। ব্রুস ছিল নিজ থিওরি প্রমাণে মরিয়া জন মানির কল্পনার সোনার হরিণ।
সোমবার, ৩ জুলাই, ১৯৬৭। বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স হসপিটালে বাইল্যাটারাল অর্কিডেকটমির মাধ্যমে বাইশ মাস বয়েসী ব্রুসের শরীর থেকে অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। ঠিক হল নিয়মিত চিঠির মাধ্যমে জ্যানেট ডঃ মানিকে ব্রুসের ব্যাপারে আপডেট জানাবে। আর বছরে একবার চেকআপের জন্য বাল্টিমোরে ব্রুসকে নিয়ে যাওয়া হবে। মানি রাইমারদের জানিয়ে দিলেন, এ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্রুস যেন নিজেকে একজন মেয়ে মনে করে বেড়ে ওঠে। ওর জীবনের প্রথম বাইশ মাসের ব্যাপারে দুই যমজকে কিছু না জানানোই ভালো হব। আর হ্যাঁ, ওর একটা নতুন নামের প্রয়োজন হবে। বাড়ি ফিরে তাই জ্যানেট আর রনাল্ড দ্বিতীয়বারের মতো তাদের সন্তানের নামকরণ করলো। ব্রুস পরিণত হল ব্রেন্ডায়।
(চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook3Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: