সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COMআমার জীবন কি আমার বাছাই করা? | সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COM

মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  » «   সিলেটে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা লক্ষাধিক পিস  » «   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার  » «   পেট পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন  » «   আমূল পরিবর্তন আসছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়  » «   ক্রেতা আনাগোনা কম সিলেটের পশুর হাটে!  » «   দক্ষিণ সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০  » «   বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স  » «   পরিকল্পিত নগর গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়র প্রার্থীদের  » «   প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া  » «   বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স  » «   উপহারের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়  » «   ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম  » «   উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স  » «   টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড  » «  

আমার জীবন কি আমার বাছাই করা?

মাহফুজ আল আমিন

আচ্ছা, আপনি কি করে বুঝবেন যে আপনার যাপিত জীবন আসলেই আপনার নিজের বাছাই করা? আপনার নিজের পছন্দের? মানে আপনার লাইফ স্টাইল কি আপনার স্বতন্ত্রতা প্রকাশ করে, আপনার স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ করে না চারপাশের সমাজে জোর করে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যাপারটাকেই, অন্যদের পছন্দ অবচেতন মনে নিজের পছন্দ হিসেবে চাপিয়ে দেয়াকেই নিজস্বতা ভেবে সারা জীবন ভুল করে আসছেন?
.
জানি প্রশ্নটা একটু কেমন যেন উইয়ার্ড শোনাচ্ছে! আচ্ছা একটু ভেঙ্গে বলি-
.
চলুন কাল্পনিক এক টাইম মেশিনে চড়ে কয়েক হাজার বছর পেছনে যাওয়া যাক। ধরুন আপনি যদি ফারাও রাজাদের পিরামিড তৈরীর আমলে জন্ম গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার জীবনধারা কেমন হতো? বা, যদি গ্রীক সভ্যতার এরিস্টটলের আমলে জন্ম নিতেন তাহলে লাইফ স্টাইল কেমন হতো? অথবা চৌদ্দশ বছর আগে আরবের জাহিলি যুগে যদি আপনাকে পাঠানো হতো তবে কি ধরনের মৌলিক প্রিন্সিপাল এর উপর আপনার জীবন ভিত্তি পরিচালিত হত তা একটু ভেবে দেখুন তো?
আচ্ছা অতীত ভালো না লাগলে চলুন আপনাকে ভবিষ্যতে নিয়ে যাই। আপনাকে যদি এখন না পাঠিয়ে আজ থেকে আরো দুইশ বছর পরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর চরম উৎকর্ষতার যুগে পাঠানো হতো তাহলে আপনি কি সেই সময়ের হিসেবেই জীবন ভিত্তি করে নিতেন বা ২ হাজার বছর পরেও যদি পৃথিবী টিকে থাকে এবং আপনি তখন জন্ম নিতেন তাহলে কি সেই পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটেই নিজের জীবন সাজিয়ে নিতেন?
.
অনেক তো প্রশ্ন হলো এবার উত্তর নিয়ে ভাবা যাক-
আপনার বর্তমান লাইফ স্টাইল এর দিকে তাকান, আপনার জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির দিকে লক্ষ্য করুন, আপনার নীতি নৈতিকতার মানদন্ড, সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের স্বরূপ এর দিকে নজর দিন , আপনার পছন্দ-অপছন্দ অভ্যাস সর্বোপরি আপনার বিশ্বাস এই সব কিছুকে এক সুতোয় বেঁধে একটি মালা তৈরি করুন । কেননা এই মৌলিক বিষয়গুলো আপনার অস্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে।
.
এবার আপনার এই অস্তিত্বের মালাটিকে বিভিন্ন সময়ের আমলে চিন্তা করুন। যদি আপনার মনে হয় একেক আমলে আপনার অস্তিত্বের নিজস্বতা একেক রকম হতো, মানে যুগ হিসেবে আপনার পছন্দ-অপছন্দ অভ্যাস দৃষ্টিভঙ্গি নীতি নৈতিকতা সামগ্রিক সত্তার মৌলিক ভিত্তি ভিন্ন ভিন্ন হতো তাহলে দুঃখের সহিত বলতে হয় বর্তমানে আপনি যেইভাবে নিজের জীবন যাপন করছেন সেটি আপনার নিজস্ব পছন্দ বা নিজস্ব বাছাই করা জীবন নয়, বরং নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া প্রচলিত সমাজ এর একটি কপি পেস্ট জীবন।
.
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে আমি এই কথা কেন বলছি? আশেপাশের আরো ৯ জন ফ্রেন্ডের আইফোন আছে বলে যেই ছেলেটা হাতে আইফোন থাকা কে তার স্মার্টনেস এর স্ট্যান্ডার্ড মনে করে, অতি জরুরি প্রয়োজন মনে করে, তার জন্য এই আইফোন ব্যবহার করা কিন্তু তার নিজস্ব প্রয়োজন নয়, অতি প্রয়োজনীয় কোন চাহিদা নয় বরং পারিপার্শ্বিকতার হিসেবে এক কৃত্তিম চাহিদার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
যেই মেয়েটা, ফেসবুকে তার ছবি দেয়ার ইচ্ছা না থাকা সত্বেও বাকি সকল বান্ধবীর ওয়ালে হাজারো পোজের ছবিতে লাইক কমেন্টের বাহার দেখে নিজের ছবিও পোস্ট করে দিচ্ছে সেটাও তার নিজস্ব বাছাই করা সত্বার বহি:প্রকাশ নয়, বরং নিজস্বতাকে বিসর্জন দিয়ে জাতে উঠার চেষ্টা মাত্র। এমন অনেক মেয়েই আছে, অনেক ছেলেই আছে যারা নির্দিষ্ট ওয়ে তে ড্রেস পড়ে, নির্দিষ্ট ওয়ে তে কথা বলে, খাবার খায় কারণ তার পছন্দের অপজিট জেন্ডার এই ট্রেন্ডটাকে পছন্দ করে, স্ট্যান্ডার্ড মনে করে, যদিও সেগুলো তার নিজস্ব পছন্দ থেকে নয় বরং আরেকজনের চোখে ফিট খাওয়ার জন্য, নিজেকে যুগ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য, নিজের নিজস্বতা বিসর্জন দিয়ে।
.
তেমনি বসের তোষামোদি, নেতার চামচামি, সমাজের গোলামি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ নিজস্বতাকে বিসর্জন দিয়ে প্রচলিত সমাজের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল রীতিনীতি কে জোর করে নিজের পছন্দ, স্বকীয়তা, স্ট্যান্ডার্ড বলে ধারণ করার চেষ্টা করে থাকে যা তার অস্তিত্বের কোন নিজস্বতা প্রকাশ করে না, স্বকীয়তা ও প্রমাণ করে না, বরং শুধুমাত্র কপি পেস্ট এক প্রাণি তে পরিণত করে যাকে যেই আমলে যেই সমাজে যেই স্থানে, যেই কালচারেই পাঠানো হোক না কেনো সে সেই সময়, স্থান, কাল, সমাজ, কালচারের আদলেই নিজেকে রাঙিয়ে নিয়ে নাচতে নাচতে অস্তিত্বের প্রতি বুড়ো আংগুল দেখিয়ে ভাব নেয়ার বিভিন্ন কায়দায় ব্যস্ত থাকবে, আর ভাববে, ” ইয়ো ম্যান আই এম ইউনিক”!
.
তাহলে কখন আমরা বলতে পারবো যে আমার যাপিত জীবন আসলে আমার ই বাছাই করা, পছন্দ করা জীবন? এটা তখনই বলা সম্ভব যখন কোন মানুষ যেই স্থান কাল সমাজ, কালচারেই জন্মগ্রহণ করুক না কেনো ঘুরে ফিরে তার আদর্শ একই থাকবে, সে তার অস্তিত্বের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করবে, একটা নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে তার জীবনে, তার চলাফেরা আচার ব্যবহারে একটা নির্দিষ্টতা থাকবে, বিশ্বাস এর ধরণে মৌলিক কোন পরিবর্তন থাকবে না, সে সময় স্থান সমাজ কালচার কোন ভ্যারিয়েবল দ্বারা অন্ধভাবে প্রভাবিত হবে না, সাময়িকভাবে যদি হয়েও যায়, তবুও অস্তিত্বের টানে ভুল বুঝতে পেরে মূলে ফিরবেই মৃত্যুর আগে কোন না কোন সময়, সে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইবে এমন এক স্ট্যান্ডার্ড আদর্শের আদলে যা তার স্বকীয়তা নিজস্বতার প্রকাশ ঘটাবে চাই সে মৌর্য আমলের লোক হোক, মিশরের ফারাওদের সময়ের হোক, আরবের ১৪০০ বছর আগের হোক, আজকের হোক বা আজ থেকে ২০০ বা ২০০০ বছর পরের ই হোক না কেনো।
.
এই মানুষগুলোর সংখ্যা কম হলেও এরা সব সময় ছিল, আছে থাকবে। এরাই সেই সত্য অনুসন্ধানী মানুষ যারা নিজেকে নির্দিষ্ট কোন গোত্র, দেশ, বর্ণ, ভাষা, প্রতিষ্ঠান এর সাময়িক হিসেবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে না, অযথা গর্ব করেনা, বরং এরা নিজের সত্বার অস্তিত্বের কারণ এবং এর একমাত্র মালিকের উদ্দেশ্য বুঝে নেয়, সেভাবেই নিজেকে পরিচালিত করতে শেখে, যত বাধা বিপত্তি ই আসুক এই মানুষগুলোকে সময়ের সাময়িক কারাগারে বন্দী করে রাখা যায় না, এরা স্রষ্টা ব্যতীত আর কারো দাসত্ব মেনে নেয় না, এরা অন্তরের উপলব্ধির দিক থেকে সবাই একই সুত্রে গাথা আলোকিত হৃদয়ের মানুষ যাদের জন্যই তাদের রব পরকালে প্রস্তুত রেখেছেন প্রকৃত আবসস্থল জান্নাত।
.
কয়েক হাজার বছর আগে যেই সময়ে পুরো জাতি মুর্তিপূজা, অগ্নিপূজায় লিপ্ত, তখন নবী ইব্রাহিম আ. যেমন সত্য কে নিজের ফিতরাত বিবেক বুদ্ধির মাধ্যমে চিনে নিয়েছেন তেমনি আজ আমেরিকা নামক ইসলামোফোবিয়ার প্রোপাগান্ডা প্রচারক দেশে বসেও তারেক মেহেন্নার মত মানুষেরা হক্ক কে চিনে নেয়, আরবের পৌত্তলিকতার যুগে সেই আবু বকর রা. আনহু যেমন বিনা দ্বিধায় হক্ক কে চিনে ফেলেছিলেন, তেমনি আজ থেকে ২০০ বছর পরেও হয়তো ড. রেন্ডম ইন্টেলিজেন্স হক্ক কে চিনে নেবেন এবং সৃষ্টির শুর থেকে শেষ পর্যন্ত রবের রহমতপ্রাপ্ত এমন মানুষগুলোই যেই কোন সময়ে, যেই কোন যুগে, যেই কোন আমলে, সমাজে কালচারে জন্মেও তারা সত্য কে চিনে নিয়ে আলিঙ্গন করবেন, নিজস্বতা স্বকীয়তা উপভোগ করবেন, পরীক্ষা দেবেন, এবং রবের সন্তুষ্টি নিয়েই তার কাছে ফিরে যাবেন। তাদের বিশ্বাস, কর্ম, আচার ব্যবহার, প্রচার চিন্তা ধারণা, মৌলিকত্ব যেনো প্রমাণ করবে তারা সবাই একই সত্বার সম্মিলিত বহি:প্রকাশ, অথচ তাদের মাঝে কত যোজন যোজন সময় এর পার্থক্য।
.
আমাদের জীবনের দিকে তাকাই, একটু নজর দেই, মিলিয়ে নেই আমরা কি আসলেই নিজের স্বকীয়তার জীবন যাপন করছি, আমাদের লাইফস্টাইল কি আসলেই নিজস্বতা বহন করে, স্বতন্ত্রতা প্রকাশ করে নাকি সময়ের হিসেবে অবচেতন মনে জোর করে চাপিয়ে দেয়া এক কপি পেস্ট জীবন, স্রোতের সাথে ভেসে যাওয়া খড়কুটোর প্রতিচ্ছবি দেখায়??
নিজেকে প্রশ্ন করার সময় কি আসেনি??
আমরা আর কত নিজেকে বোকা বানাবো, স্ব অস্তিত্বকে বিদ্রুপ করবো??

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
6Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: