সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COMথেকেও না থাকা | সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COM

সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  » «   সিলেটে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা লক্ষাধিক পিস  » «   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার  » «   পেট পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন  » «   আমূল পরিবর্তন আসছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়  » «   ক্রেতা আনাগোনা কম সিলেটের পশুর হাটে!  » «   দক্ষিণ সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০  » «   বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স  » «   পরিকল্পিত নগর গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়র প্রার্থীদের  » «   প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া  » «   বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স  » «   উপহারের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়  » «   ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম  » «   উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স  » «   টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড  » «  

থেকেও না থাকা

শিহাব আহমদ তুহিনঃ
আলেমদের সামনে বসে তাদের কথা শুনতে পারা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। তাদের পায়ের সামনে চুপচাপ বসে থাকলেও অনেক কিছু শেখা যায়। তাহলে নবীদের (আ) কাছে থাকতে পারলে কী অসাধারণ অভিজ্ঞতা হতো ভাবা যায়? আর যদি সাহাবাদের সাথে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ রাসূল (সা)-এর সঙ্গ পাওয়া যেতো, তাহলে? আল্লাহু আকবার!
.
শুধু আল্লাহ্‌ তায়ালাই জানেন কতোই না অসাধারণ ও পবিত্র ছিল সেই আসরগুলো। রাসূল (সা) সাহাবাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিতেন। আল্লাহ্‌ তায়ালাকে ভয় করতে বলতেন। সেখানে কোন অশ্লীল কথা-বার্তা হতো না। অনর্থক বাক্যালাপে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করতেন না। এতো পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত বৈঠকে থেকেও রাসূল (সা) বারবার আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতেন।
.
সাহাবী ইবনে উমার (রা) এ ব্যাপারটি লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি বলেন, “শুধু এক বৈঠকেই আমরা একশবার গুনতে পারতাম যে, রাসূল (সা) বলছেন –
.
رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
.
“হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার তওবা গ্রহণ করুন। আপনি তো সেই দয়াময় সত্তা যিনি তওবা কবুল করেন।” [আবু দাউদ, হাদীস নংঃ ১৫১৬]
.
.
তার দেহ ছিল সাহাবাদের সাথে। তাদের সাথে তিনি গল্প করতেন। তাদের কথা শুনতেন। তাদের আনন্দে তিনিও আনন্দিত হতেন। কেউ কষ্ট পেলে তাকে সান্ত্বনা দিতেন। কিন্তু তার মন? সেটা জুড়ে ছিল তার স্রষ্টার সাথে। সে অন্তর সামান্য সময় তার রবকে স্মরণ করতে না পারলে অস্থির হয়ে উঠতো।
.
আমাদের সময়ে এই সুন্নাহ্‌টি এতো প্রয়োজনীয় কেন?
.
যদি রাসূল (সা) সাহাবাদের সাথে থেকেই একশবার আল্লাহ্‌ তায়ালাকে স্মরণ করেন, তাঁর কাছে ক্ষমা চান, তাহলে আমাদের কতোবার আল্লাহ্‌ তায়ালাকে স্মরণ করা উচিত? তাঁর কাছে ক্ষমা পাওয়া উচিত? আমাদের আড্ডা তো অশালীন কথা ছাড়া চলেই না। অনেক ভদ্র আলাপচারিতাতেও আমরা ইসলামের কথা বলতেই লজ্জা পাই। আর যদি বলিও, তবে আমাদের উপস্থানপনার দূর্বলতায় হোক আর তাদের ঈমানের দূর্বলতায় হোক, তারা আমাদের কথা শুনতেও চায় না।
.
অনেক সময় না চাইলেও আমাদেরকে এমন সব লোকদের সাথে বসতে হয় যাদেরকে আমরা পছন্দ করি না। তাদের সাথে খুব বেশি কথা বলতে চাই না। আমাদের ভয় হয়, তাদের সাথে বসলে আমাদের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। নোংরা চিন্তায় অন্তরটা কলুষিত হয়ে যাবে। কিন্তু পরিবেশ আমাদের বাধ্য করে। আমরা সবাই-ই কম বেশি এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। এ অবস্থায় করণীয় কী?
.
এই সুন্নাহ্‌র প্রয়োগ করুন। আমাদের সময়ে এটির কোন বিকল্প নেই।
___________
.
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ) এ বিব্রতকর অবস্থার কথা বলতে গিয়ে অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় বলেছেন –
.
“কখনো কখনো কাউকে যদি বাধ্য হয়ে মাত্রাতিরিক্ত ‘মুবাহাত’ (এটি বলতে এমন কিছু বিষয়কে বোঝানো হয় যা সওয়াব কিংবা গুনাহ্‌ কোনটিই নিয়ে আসে না। কিন্তু এ ব্যাপারগুলোতে খুব বেশি লিপ্ত থাকা প্রশংসনীয় নয়) -এর বৈঠকে থাকতে হয়, তবে সে যেন এ ধরনের আসরকে তার সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহ্‌র আনুগত্যের মজলিসে রূপান্তরের চেষ্টা করে।
.
সে যেন নিজের মধ্যে সাহস রাখে। নিজের অন্তরকে দৃঢ় করে। শয়তানের কথায় কান না দেয়। শয়তান তো ফিসফিস করে বলবেই, “তুমি তো লোক দেখানোর জন্য এমন করছ। তুমি আসলে চাচ্ছ সবাই যাতে তোমাকে আলাদা নজরে দেখে।”
.
শয়তানের এই ধোঁকাকে একটুও পাত্তা দেয়া যাবে না। আল্লাহ্‌র সাহায্য চাইতে হবে। আর নিজের সাধ্য অনুযায়ী সবাইকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে হবে।”
.
কিন্তু যদি এমন কোন উপায় না থাকে? যদি মজলিসটা এমন হয় যে, সেখানে না ইসলামের কথা বলা যাবে আর না সেখানে থেকে চলে আসা যাবে?
.
ইবনুল কায়্যিম (রহ) সেক্ষেত্রে চমৎকার একটি সমাধান দিয়েছেন-
“কিন্তু সত্যিই যদি কেউ তা না করতে পারে, তবে সে যেন ঐ মজলিস থেকে নিজের অন্তরকে এমনভাবে সরিয়ে নেয় যেভাবে সে ময়দার তাল থেকে আঁশ ছড়িয়ে নেয়। সে যাতে সেখানে থেকেও না থাকে। তাদের কাছে থেকেও দূরে থাকে। জেগেও ঘুমিয়ে থাকে। সে তাদের দেখেও দেখছে না। শুনেও শুনছে না।
.
কারণ, সে তার মনকে তাদের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলেছে। নিয়ে গেছে সবচেয়ে উপরে। আরশের পাশে সব পবিত্র রূহের সাথে।
সে মন আল্লাহ্‌র প্রশংসা করছে। তাঁর মহিমার কথা বলছে।”
.
___________
.
এমনটা করতে পারা খুবই কঠিন। সেটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ) এই বলে শেষ করেন –
.
وما أصعب هذا وأشقه على النفوس، وإنه ليسير على من يسره الله عليه
.
“যে কারোর অন্তরের জন্য এটা কতোই না দূঃসাধ্য! তবে তার জন্য নয়, যাকে আল্লাহ্‌ সাহায্য করেন।” [মাদারিজুস সালেকীন, ১/৪৫৪]
.
.
[‘হারিয়ে যাওয়া মুক্তো’- থেকে]

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: