সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COMকিশোর অপরাধ নির্মূলে চাই সামাজিক প্রতিরোধ | সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COM

সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  » «   সিলেটে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা লক্ষাধিক পিস  » «   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার  » «   পেট পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন  » «   আমূল পরিবর্তন আসছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়  » «   ক্রেতা আনাগোনা কম সিলেটের পশুর হাটে!  » «   দক্ষিণ সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০  » «   বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স  » «   পরিকল্পিত নগর গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়র প্রার্থীদের  » «   প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া  » «   বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স  » «   উপহারের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়  » «   ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম  » «   উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স  » «   টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড  » «  

কিশোর অপরাধ নির্মূলে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক উদাসীনতা, কিশোরদের রাজনৈতিক ব্যবহারসহ নানা কারণে দেশে কিশোর অপরাধ বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোররা। খুনখারাবীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করছে তারা। গত দুই বছরে দেশে গ্রুপভিত্তিক কিশোর অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এখনই যদি এ অবস্থা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না যায় তবে তা মহামারীর রূপ নেবে।
পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন এলাকায় বিপথগামী কিশোররা বিভিন্ন নামে গড়ে তুলছে বিভিন্ন গ্রুপ। তারা স্কুলে যাওয়ার নাম করে ঘর থেকে বের হলেও স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্নস্থানে আড্ডা দেয়, স্কুলের সামনে ইভ টিজিং করে, সন্ধ্যার পর আবাসিক এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল আড্ডা আর নেশা করে, পাড়ার মোড়ে মোড়ে হৈ হুল্লোড় করে ও জোরে হর্ণ বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালায়, মুরব্বীদের সঙ্গে বেয়াদবী করে, তাদের অপকর্মে কেউ বাঁধা দিলে তাকে অপদস্ত করে, এমনকি খুন করতেও দ্বিধা করে না, এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে শত্রু বিবেচনা করে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যে যে কোনো অপরাধ করতে তারা পিছপা হয় না।
বিভিন্ন সমাজ গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এসব অপরাধী গ্রুপ গড়ে তুলছে সমাজের বিত্তবান ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের উচ্ছন্নে যাওয়া সন্তানরাও এসব গ্রুপে যোগ দিচ্ছে। তাদের বয়স সাধারণত ১৪ থেকে ১৬ বছর। তারা অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধের মধ্য দিয়ে পা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বড় ধরনের অপরাধ কাজে লিপ্ত হচ্ছে। চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনোখুনিতে মেতে উঠেছে তারা। তারা নিজেদের শক্তিকে মজবুত করতে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশয়ও নিচ্ছে। কিছু সন্ত্রাসী গডফাদার এসব বিপথগামী কিশোরদের ব্যবহার করছে নিজেদের অসৎ উদ্দ্যেশ্য চরিতার্থ করতে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতাও নেই বললে চলে। ফলে এরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এই অপরাধী কিশোরগ্রুপগুলো সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে প্রতিদিন। এরা সাধারণ মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছে। আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন কিশোর নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক কিশোর।
সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পরিবারিক বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা দ্রুত বেড়ে চলেছে। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। ফলে বাবা-মা-সন্তানের মধ্যেও স্নেহের বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সন্তানদের সময় দেন না অনেক মা-বাবা। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে, সে খোঁজও রাখা হয় না। বিচ্ছিন্নতার পরিণামে সন্তানরা এক সময় গ্যাং কালচারে হারিয়ে যায়। তাছাড়া চলচ্চিত্র এবং সমাজবাস্তবতা থেকেও অপরাধের পাঠ নিচ্ছে কিশোর-তরুণরা। অনুকরণের মাধ্যমেও অনেক অপরাধ ঘটছে। কিশোরদের মধ্যে একটা অনুসরণ করার প্রবনতা থাকে। এই বয়সে তাদের মনে একটা অ্যাডভেনচারিজম কাজ করে। তারা যে কাজ করে আনন্দ পায় তা দ্রুত অনুসরণ করে। সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জায়গাটা দুর্বল হয়ে গেলে কিশোর মন খুব দ্রুত অপরাধের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। আবার কিশোর বয়সে অপরাধ করলেও আইনে তাদের শাস্তি দেয়ার বিধান নেই। ফলে তাদের ওপর আইনের কঠোর প্রয়োগের সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত প্রশাসনিক, সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগ নেয়া জরুরি। পুলিশী অভিযান ও টহল জোরদার করার পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ ও সচেতনতা কর্মসূচি থাকলে, একইসঙ্গে পরিবারের অভিভাবকদের ইতিবাচক ভূমিকা থাকলে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সাফল্য আসবে। উল্লেখ্য, গ্যাং কালচারের বিষয়টি সামনে আসার পর অনেক অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এটা স্বাভাবিক। যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাং গ্রুপগুলো শক্তিশালীভাবে তাদের অবস্থান জানান দেয়, তখন সন্তানদের অভিভাবকদের চিন্তার যথেষ্ট কারণ থাকা স্বাভাবিক। তবে, অভিভাবকরা সচেতন হলে সন্তানরা বিপথগামী হবে না। কিশোররা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, খোঁজ নেয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের। অভিভাবকরা সন্তানদের অযৌক্তি আশকারা না দিয়ে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করলে সন্তানরা বেপরোয়া হবে না। মনে রাখা দরকার, সন্তানকে সুপথে রাখতে চাইলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। সন্তানকে নৈতিক শিক্ষায় পুষ্ট করতে হবে। দিতে হবে সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা। আর এজন্য ছেলেমেয়েদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। পরিবারে ইসলাম চর্চা বাড়িয়ে দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
1Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: