শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: শেষ মূহুর্তের দুই গোলে চমক দেখালো ব্রাজিল  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ঃ আর্জেন্টিনাকে ৩ গোলে বিধ্বস্ত করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া  » «   ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৮: নক আউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো স্পেন  » «   হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়া-ডেনমার্ক ম্যাচ ড্র  » «   মেসি সর্বকালের সেরা: রাকিটিচ  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: রোনালদোর গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে পর্তুগাল  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ঃ সৌদি আরবকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ে  » «   কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহঃ তিনজনের লাশ উদ্ধার  » «   নগরীতে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে কিশোর খুন  » «   বাংলাদেশী নাজমা খানের আহ্বানে হিজাব পরছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও  » «   কেমন আছেন সালাহ?  » «   সিলেট সিটি নির্বাচন ৩০ জুলাই  » «   তৃতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস  » «   নগরীর অভিজাত শপ-রেস্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা  » «   রাশিয়ার মিসাইলেই বিধ্বস্ত হয় মালেশিয়ার বিমান: তদন্ত দল  » «  

পান বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে বই পড়েন জামাল মিয়া

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ
নাম জামাল মিয়া। বই পড়া তার নেশা। ছোট্ট একটি পান ভান্ডার তার আয়ের উৎস। যত টাকা আয় হয় তার বিরাট একটি অংশ ব্যয় হয় বই কেনার পেছনে। ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে বই পড়েন। বাসায় গিয়ে ডুবে থাকেন বইয়ে। কতশত বই পড়েছেন হিসেব রাখেননি। বাসায় আছে ৫ শাতাধিক বই।
মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের ঘরোয়া পরিবেশের ছোট হোটেল জননী। জননী হোটেলে মৌলভীবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল। কাজের ফাঁকে যতটা সময় মিলে সবাই চেষ্টা করেন সেই সময়টুকু জননী হোটেলে আড্ডায় ব্যয় করতে। জননী হোটেলের সামনে জামাল মিয়ার পান ভান্ডার। ২৩ বছর যাবৎ পানের ব্যাবসা করছেন তিনি।
জামাল মিয়ার একমাত্র ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র। স্ত্রী প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। এইচএসসির পর আর লেখাপড়া করেতে পারেননি জামাল মিয়া। তবে থেমে যায়নি তার জ্ঞান পিপাসা। প্রতিনিয়ত বই পড়ছেন জ্ঞানের মহাসমুদ্র থেকে কিছু আহরণ করার জন্য।
রোববার সন্ধ্যায় জামাল মিয়ার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তখনও কথার ফাঁকে ফাঁকে পড়ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অসামাপ্ত আত্মজীবনী।
আলাপকালে জামাল মিয়া জানান, তার মন খারাপ, পারিবারিক বা ব্যবসায়ীক টেনশন! যে কোনো মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তার একমাত্র সমাধান বই। জীবনে কতটি বই পড়েছেন তার হিসেব রাখেননি। পান-সিগারেট বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে বই পড়েন। দৈনিক পত্রিকা দিয়ে বইয়ের উপরে মলাট লাগান, যেন কেউ বইয়ের নাম না দেখে। সব সময় বই মেলে রাখেন সুযোগ পেলেই চোখ রাখেন বইয়ে। বাসায় গিয়েও ডুবে থাকেন বইয়ের মাঝে। তার পছন্দের তালিকায় আছেন নবীন-প্রবীণ সব লেখক।
তিনি আরও জানান, সামান্য সময় পেলেই বইয়ে চোখ নিজ থেকেই চলে যায়। এটাই নাকি তার অভ্যাস হয়ে গেছে। কোনো কারণে বই পড়তে না পারলে নিজেকে অসুস্থ মনে হয়। অনেকেই তার কাছ থেকে বই ধার নিয়েছেন কিন্তু বেশিরভাগ তা আর ফেরত দেয়নি।
জামাল মিয়া জানান, প্রতিদিন ছোট দোকানে ৮০০/১০০০ টাকার বিক্রি হয়। তা থেকে যা আয় হয় তার বড় অংশ খরচ করেন বইয়ের পেছনে। অভাবের সংসার তবুও তার স্ত্রী এ নিয়ে আপত্তি করেন না।
আফসোস করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের অনেক ছেলেরা আমার দোকানের কাস্টমার কিন্তু তাদের বিরাট অংশ জাতির পিতার আত্মজীবনী পড়ে দেখেনি। তেমনি ছাত্রদলের অনেক ছেলে আছে জিয়াউর রহমান কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন সেটাই বলতে পারে না। জানতে হলে পড়তে হবে। জানতে পারলে নিজেকে পূর্ণ লাগে।
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মহসিন পারভেজ বলেন, আমি ২০ বছর যাবত জামাল মিয়াকে এভাবেই দেখে আসছি। তিনি খুব মেধাবী এবং জ্ঞানপিপাসু।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook3Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: