সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন আরিফুল হক চৌধুরী  » «   সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «  

বন-পাহাড়ের আকর্ষণ লাল বন-মোরগ

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
চায়ের রাজধানী এবং দেশের অন্যতম পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলের প্রভাতী-আকর্ষণ ‘বনমোরগ’ এর ডাক। নিবিড় বনভূমির সুস্বাস্থ্য হয়ে সেই ডাক প্রতিধ্বনিত হয় টিলা থেকে টিলায়। সবার গভীর স্নিগ্ধতার সঙ্গে এই ডাক জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুভূতির নীরব কণ্ঠময় সাক্ষী।
প্রতিটি ‘লাল-বনমোরগ’ নতুন প্রভাতের উদাত্ত কণ্ঠের ঘোষক। ‘কুক-কুরু-কু…কুক-কুরু-কু’ ডাকটি দীর্ঘ থেকে সরু হয়ে একসময় শ্রীমঙ্গলের সবুজ প্রকৃতিতে মিলিয়ে যায়। এরা উঁচু গলায় ঘন ঘন ডাকতে থাকে। এ এক বিস্ময়কর ভালোলাগা! কানে আসা মাত্রই দারুণভাবে শিহরিত হয় মন।
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস শনিবার (০৩ মার্চ)। এই বনমোরগগুলোই তার আপন কণ্ঠধ্বনিতে নিজেদের জাগরণের কথাগুলো এতোকাল ধরে ঘোষণা করে চলেছে- অরণ্যের পরতে পরতে। এই বসন্তপ্রকৃতির আম্রমুকুলের গন্ধে, বিরামহীন মৃদু বাতাসের মর্মরে। সৌখিন আলোকচিত্রী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমী সাঈদ বিন জামাল বলেন, মোরগ-মুরগির আদি বাসস্থল এশিয়া। সারা পৃথিবীতে যত ধরনের মোরগ-মুরগি দেখা যায় তাদের পূর্বপুরুষ হলো আমাদের এশিয়ায়। বনমোরগের ইংরেজি নাম Junglefowl এবং বৈজ্ঞানিক নাম Gallus gallus। বন ধ্বংস এবং নির্বিচারে শিকার এদের ক্রমশ বিলুপ্তির প্রধান কারণ। এখন এদেশে এরা বেঁচে আছে কেবল শাল-গজারি বন, সুন্দরবন, চিরসবুজ বন এলাকা এবং উত্তর-পূর্বের কিছু চা বাগানে।
তিনি আরো বলেন, বনমোরগ লম্বায় সাধারণত ৬৩-৬৫ সেন্টিমিটার এবং বনমুরগি প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার। এরা উড়ে লম্বা স্থান অতিক্রম করতে পারে। এদেশে দুই শতক আগেও টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া প্রায় সর্বত্রই এদের বিচরণ ছিল; এমনকি গত শতাব্দীর মাঝামাঝি ঢাকার অদূর সাভার-টঙ্গী এলাকায়ও বনমোরগ দেখা যেতো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, এখন মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জে বনমোরগ বেশ ভালোই চোখে পড়ছে। আমিও ভোরের দিকে তাদের একাধিকবার দেখেছি। আসলে, বন-জঙ্গলের সুস্থাস্থ্যের প্রতীক বনমোরগ।
তিনি আরো বলেন, এখনো কিছু কিছু চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় কতিপয় অসাধু চা শ্রমিকরা বিভিন্ন ফাঁদ পেতে বনমোরগ শিকারে বিষয়টি শোনা যায়। তাদেরকে সচেতন করা হলে এবং এ ব্যাপারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হলে বনমোরগের প্রজনন আরো বৃদ্ধি পেয়ে বনের সৌন্দর্য বাড়াবে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) তবিবুর রহমান বলেন, আমাদের নজরদারীর ফলে বর্তমান শুধু বনমোরগই নয়; অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের প্রজনন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ধরে রাখতে পারলে আমাদের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ অন্যান্য চা বাগানের জঙ্গল এলাকাগুলোতে বনমোরগের প্রজননে বেশ আশাব্যঞ্জক সফলতা আসবে।
এখানে আগত পর্যটকরা সকালে ঘুম থেকে উঠে জঙ্গল এলাকা প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েই আরো বেশি সংখ্যায় বনমোরগের ডাক শুনতে পাবেন। বনমোরগসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার ও প্রচার বন্ধে আমরা তৎপর রয়েছি বলে জানান এসিএফ তবিবুর রহমান।
সূত্রঃ বাংলানিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: