সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
তৃতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস  » «   নগরীর অভিজাত শপ-রেস্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা  » «   রাশিয়ার মিসাইলেই বিধ্বস্ত হয় মালেশিয়ার বিমান: তদন্ত দল  » «   রাজস্থানকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে কলকাতা  » «   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নিহত  » «   নগরীতে বাসের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত  » «   ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ যাত্রী আটক  » «   ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মের প্রতি আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলাম  » «   অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ আর নেই  » «   খাবারে ভেজাল মেশানো বড় পাপ : বিভাগীয় কমিশনার  » «   চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালঃ রিয়ালের বড় বাধা সালাহ!  » «   খুলনায় নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ: সুজন  » «   লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী  » «   গোয়াইনঘাটে ২০ দিন ধরে যুবক নিখোঁজ  » «   ১৪১ বাংলাদেশি যাত্রী নিয়ে সৌদি বিমানের জরুরি অবতরণ  » «  

নেপালে বাংলাদেশি বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিঃ আমাদের গভীর শোক

গত সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ৪ ক্রুসহ ৬৭ আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় পাইলট, ক্রুসহ বাংলাদেশি ৩৬ জনের মধ্যে ২৬ জন মারা গেছেন। বাকি ১০ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ শিক্ষার্থী ছিলেন। এদের সবাই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা সকলেই নেপালি বংশোদ্ভূত। কলেজের ছুটিতে নিজ দেশে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ওই ১৩ শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তিন দিনের শোক পালন শুরু হয়েছে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের স্মরণে।
কাঠমাণ্ডুতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের সময় বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল দেখা দেয়। খবর বিবিসি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি কোন বিমানের এটাই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে নেপালেও এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, ৩২ যাত্রী ও চার ক্রুসহ মোট ৩৬ বাংলাদেশি বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ারা জানিয়েছেন, তারা বিমান অবতরণের সময় তীব্র শব্দ শুনতে পান এবং বিমানটি সে সময় কাঁপছিলো। সে সময় বিমানের ভেতরে থাকা লোকজন কান্নাকাটি করছিল এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিমান বিধ্বস্তের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বারডায়ার ড্যাশ-৮ বিমানটি ১৭ বছরের পুরনো। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে যাত্রা করে। বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমন একজন বসন্ত বোহোরা। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বিমানে তীব্র শব্দ হচ্ছিল। আমি একটি জানালার কাছে বসেছিলাম তাই তখনই বিমান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হই। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ২২ বছর বয়সী সানাম সাখিয়া এএফপিকে বলেন, বিমান উপরে-নিচে, ডানে-বায়ে কাত হয়ে যাচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো এয়ার ট্রাফিকের জন্য হচ্ছে। কিন্তু পরে আমি জানতে পারি যে বিমানে সমস্যা হচ্ছে।
ফটোসাংবাদিক সরোজ বাসনেট বিবিসিকে বলেন, বিমানটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রায় ১৫ মিনিট সেখানে ছিলাম। বিমানের ভেতরে সে সময় লোকজন কান্নাকাটি করছিল।
বিমানটি কি কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও পরিস্কার নয়। তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন ভুল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছে। অপরদিকে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের অভিযোগ বিমানটি ভুল রানওয়েতে অবতরণের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান বিধ্বস্তের কারণ জানতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছে নেপাল। প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাল ওলির উপস্থিতিতে হওয়া মন্ত্রীদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সাবেক সচিব প্রসাদ গৌতম এই তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন। সিংহ দরবারে সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেছেন, আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোনো প্রয়োজন হলে তারা সাহায্য করবে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, নেপালের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। মূল কাজটি করবে নেপাল। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হলে তা তথ্য উদ্ধার করতে পারবে। তখন অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে। কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে এটা বলা মুশকিল। তবে রিজন বের করবো, যাতে এর রিপিটিশন না হয়।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে- আশা রাখছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: