শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যার স্বাধীন তদন্ত চায় কমনওয়েলথ  » «   সিরিয়ায় পশ্চিমা হামলা এবং বিশ্বনেতাদের রহস্যজনক ভূমিকা  » «   বিএসএফ’র হাতে আটক ২ যুবক ভারতের কারাগারে  » «   বহুদিন পর আরব আমিরাতে খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রম বাজার  » «   সৌদিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই সহোদরসহ ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু  » «   শ্রীমঙ্গলে প্রশ্ন ফাঁসচক্রের ৪ সদস্য আটকঃ ২৫ হাজার টাকায় মিলতো গোল্ডেন এ-প্লাস  » «   শাকিল এর জবানবন্দিঃ চার বন্ধু মিলে খুন করে সোহাগকে  » «   গোলাপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র খুন  » «   মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে রোহিঙ্গা নারীর আহবান  » «   আমেরিকায় ঢুকতে গিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে আটক ১৭১ বাংলাদেশী  » «   এভাবে কখনো সিরিয়ায় শান্তি ফিরবে না…  » «   মানঘাঁটিতে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সিরিয়ার  » «   ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ  » «   কুলাউড়ায় ধর্ষক কবিরাজ আটক  » «   স্পোর্টস সাস্টের নতুন নেতৃত্বে নাঈম-তৌফিক  » «  

আতিয়া মহলে নিহত তিনজনের পরিচয় এক বছরেও শনাক্ত হয়নি

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
সিলেটের আতিয়া মহলে অপারেশন টোয়াইলাইটের এক বছর হলো আজ। ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভবনটিতে ‘জঙ্গি আস্তানা’ চিহ্নিত হওয়ার পর ২৫ মার্চ অভিযান চালায় সেনা সদস্যরা। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর অভিযানে নিহত চার ‘জঙ্গি’র মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গত বছর প্রায় ১১১ ঘণ্টার অভিযানে ওই ভবন থেকে এক নারীসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ‘নব্য জেএমবি নেতা’ মঈনুল ইসলাম ওরফে মুসা ও তার স্ত্রী মর্জিনার বলে ধারণা করা হয়েছিল। ‘জঙ্গি’ মনজিয়ারা পারভীন ওরফে মর্জিনার পরিচয় ডিএনএ টেস্টে নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকিদের ডিএনএ মিলেনি। অন্যদিকে নব্য জেএমবি নেতা মুছা আতিয়া মহলে ছিল কি না, তা এক বছরেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আতিয়া মহলের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত কার্যক্রমের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন পিবিআইয়ের সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক।
২৪ মার্চ, শনিবার রেজাউল বলেন, ‘মামলা দুটির তদন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানার সঙ্গে দেশ-বিদেশের যারা জড়িত, ইন্ধনদাতা ও অর্থ যোগানদাতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। আশা করছি আমরা ভালো কিছু বের করতে পারব।’
রেজাউল করিমের ভাষ্য, নিহত চার জঙ্গির একজন মনজিয়ারা পারভীন ওরফে মর্জিনা। তার পরিচয় শনাক্তের পরপরই চট্টগ্রাম থেকে তার এক বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে গত বছরের ২৯ মার্চ মর্জিনার বাবা নুরুল ইসলাম ও বড় ভাই জিয়াবুল হককে নিহত নারীর মৃতদেহের ছবি ও বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় দেওয়া পরিচয়পত্র দেখানো হয়। তবে ওই ছবি দেখে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টে মনজিয়ারা পারভীন ওরফে মর্জিনার পরিচয় শনাক্ত হয়। মর্জিনা নামে পরিচিত এ নারী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিহত জঙ্গি জুবাইরা ইয়াসমীনের বোন বলেও দাবি করেছেন পুলিশ সুপার রেজাউল।
সন্দেহভাজন অপর ‘জঙ্গি’ মঈনুল ইসলাম ওরফে মুসার পরিচয় ডিএনএ টেস্টেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি দাবি করে এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত বছরের ৩০ মার্চ মুসাকে শনাক্তের জন্য রাজশাহী থেকে মুসার মা সুফিয়া বেগমকে সিলেটে এনে তারও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ টেস্টে সুফিয়া বেগমের নমুনার সঙ্গে মুসার নমুনা মিলেনি।’
ফিরে দেখা ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’
২০১৭ সালের ২৪ মার্চ শুক্রবার ভোরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে আতিয়া মহল নামের একটি ভবনের চারদিকে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিনভর ওই ভবন থেকে কথিত জঙ্গিদের বের হয়ে আত্মসমর্পণ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরদিন ২৫ মার্চ শনিবার সকাল থেকে জঙ্গি সদস্যদের ধরতে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালিত হয়। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেনের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের শুরুতে উদ্ধার করা হয় ওই ভবনে অবরুদ্ধ থাকা ৭৮ জন বাসিন্দাকে। পরবর্তী সময়ে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় শেষ হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’।
জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট সেনাবাহিনীর প্রেসব্রিফিং শেষে কর্ডন করে রাখা জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের অদূরে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এর এক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। দুই দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন নিহত ও আহত হন অর্ধশত।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, কোর্ট ইন্সপেক্টর চৌধুরী মো.কয়সার, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু, নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম, তার সঙ্গী খাদিম শাহ ও কুচাই এলাকার কলেজছাত্র জান্নাতুল ফাহিম।
বোমা হামলার ঘটনায় ২৬ মার্চ মোগলাবাজার থানার সাব ইন্সপেক্টর শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook1Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: