বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
দক্ষিণ সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০  » «   বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স  » «   পরিকল্পিত নগর গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়র প্রার্থীদের  » «   প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া  » «   বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স  » «   উপহারের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়  » «   ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম  » «   উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স  » «   টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড  » «   সিসিক নির্বাচনঃ সবচেয়ে সম্পদশালী মেয়রপ্রার্থী কামরান  » «   সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন  » «   সিলেট সিটি নির্বাচন: প্রচার ১০ থেকে ২৮ জুলাই  » «   সিসিক নির্বাচন: বাছাইয়ে ছিটকে পড়লেন ২০ প্রার্থী  » «   নেইমার ম্যাজিকে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ব্রাজিল  » «   টাইব্রেকারে রাশিয়ার কাছে হেরে বিদায় স্পেনের  » «  

নগরীতে মা-ছেলেকে গলাকেটে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিলেট নগরীর মীরাবাজার খারপাড়া এলাকায় মা ও ছেলের গলা কাটা মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শুক্রবার রাতেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (০১ এপ্রিল) দুপুরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ খারপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর কলকলি গ্রামের হেলাল মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৫) ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৬)। তারা ওই বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।। ওই বাসা থেকে রাইসা নামে নিহতের পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তাদের সাথে বাসায় একটি কাজের মেয়েও থাকত। নিহতের স্বামী গত রমজান মাসে স্ট্রোক করার পর থেকে বারুতখানায় উত্তরণ ৫০ নং বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী পান্না বেগম নিয়ে থাকেন।
নিহত রোকেয়ার ভগ্নিপতি ফারুক মিয়ারসঙ্গে সবশেষ শুক্রবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় কথা হয় রোকেয়ার। ধারণা করা হচ্ছে, ওইদিনই সন্ধ্যার পর তাদের হত্যা করা হয়েছে। এজন্য মরদেহে কিছুটা পচন ধরেছে, জানায় পুলিশ।
রোকেয়ার ভাই নগরীর শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, চার ভাই ও ২ বোনের মধ্যে রোকেয়া ছিলেন তৃতীয়। গত শুক্রবার থেকে তার বোনের মোবাইল বন্ধ পেয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের বাসিন্দা তার আরেক বোন ফোনে তাকে বাসায় খোজ নিতে বলেন। শনিবার দোকানে ব্যস্ততার কারণে আসতে না পারায় রোববার (০১ এপ্রিল) সকালে দোকানে যাবার আগে বাসায় খোজ নিতে এসে দরজার কলিং বেলে চাপ দিতে ভেতরে শুধু ভাগ্নি রাইসার কান্না জড়িত কন্ঠ শুনতে পান। রাইসা বলে, মামা, আম্মু-ভাইয়ারে মেরে ফেলেছে।
তিনি বলেন, রাইসা ভেতের থেকে দরজা খুলতে না পারায় বাসার মালিকের ছেলেকে ডেকে এনে জানালা দিয়ে গিয়ে তার ভাগ্নির শরীরে জখমের দাগ দেখতে পান। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়। তার বোনের সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কিনা, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না জাকির। তবে ১০/১৫দিন আগে বাসায় নাকি ‘ডাকাতির’ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই বাসার মালিক সালমান হোসেন জানান, তারা বছরখানেক আগে এই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন। ওই নারী একটি বিউটি পার্লারের ব্যবসা খুলেছেন। তার ছেলে মীরাবাজারের জামেয়া থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ছেলেটি খুব শান্তশিষ্ট ছিল। হত্যার ঘটনা বাসার নীচ তলায় প্রতিবেশী এবং ২য় তলা, ৩য় তলার অন্য ভাড়াটিয়ারা এ ঘটনার কিছুই টের পাননি-বলেন সালমান হোসেন।
তবে সকালে রোকেয়ার ভগ্নিপতি ভাই জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দু্ই রুমে দু’জনের মরদেহ পাওয়া যায়। এদিকে, ঘটনার পর থেকে ওই বাসার গৃহকর্মী তানিয়াকে (১৬) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানান, রোকেয়া ও তার দুই ছেলে মেয়েকেই মারতে চেয়েছিল ঘাতকরা। উদ্ধার করা শিশুটিকেও শ্বাসরোধ করা হয়েছিল, পরে তার জ্ঞান ফিরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতেই মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বিকেলে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারি কমিশনার (এসি) গোলাম দস্তগীর বলেন, মূল ঘটনা তদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। মৃত রোকেয়ার বাসা থেকে তার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নগরীর বারুতখানা উত্তরণ ৫০ বাসায় গেলে নিহত রুকেয়ার স্বামী অসুস্থ হেলাল মিয়া সঙ্গে দেখা হয়। তিনি কথা বলতে না পারায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী পান্না বেগম বলেন, তাদের বিয়ের ১১ বছর হয়েছে। ৯ বছরের একটি পুত্র সন্তান আছে তাদের। তার স্বামীর ওই পরিবার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ওই বাসায় ভাইদের উপর ভর করে স্বামী সংসার নিয়ে আছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook1Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: