শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যার স্বাধীন তদন্ত চায় কমনওয়েলথ  » «   সিরিয়ায় পশ্চিমা হামলা এবং বিশ্বনেতাদের রহস্যজনক ভূমিকা  » «   বিএসএফ’র হাতে আটক ২ যুবক ভারতের কারাগারে  » «   বহুদিন পর আরব আমিরাতে খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রম বাজার  » «   সৌদিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই সহোদরসহ ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু  » «   শ্রীমঙ্গলে প্রশ্ন ফাঁসচক্রের ৪ সদস্য আটকঃ ২৫ হাজার টাকায় মিলতো গোল্ডেন এ-প্লাস  » «   শাকিল এর জবানবন্দিঃ চার বন্ধু মিলে খুন করে সোহাগকে  » «   গোলাপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র খুন  » «   মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে রোহিঙ্গা নারীর আহবান  » «   আমেরিকায় ঢুকতে গিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে আটক ১৭১ বাংলাদেশী  » «   এভাবে কখনো সিরিয়ায় শান্তি ফিরবে না…  » «   মানঘাঁটিতে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সিরিয়ার  » «   ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ  » «   কুলাউড়ায় ধর্ষক কবিরাজ আটক  » «   স্পোর্টস সাস্টের নতুন নেতৃত্বে নাঈম-তৌফিক  » «  

শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ বিসিএস

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট চরম পর্যায়ে রূপ নেয়ায় শিক্ষা ক্যাডার পদে এই নিয়োগ দিতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজের শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদা পাঠানোর প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা দেশে সরকারি কলেজগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় দুই হাজার প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও শিক্ষক শূন্যতায় নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম। সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন তা দ্বারা শিক্ষক সঙ্কট দূরীকরণ সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চিকিৎসক নিয়োগে বিশেষ বিসিএস আয়োজনের মতো শিক্ষক নিয়োগ দিতেও রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাবের ওপর সভায় নীতিগত সিদ্ধান্তে সবাই একমত পোষণ করেছেন। সভায় সভাপত্বিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন। এছাড়াও মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে শিক্ষক সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ করণে শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চলতি মাসেই এ চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, পিএসসির আয়োজিত সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে সংখ্যাক শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ আসে তাদের নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যা দূরীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এখনো অনেক কলেজে বিষয়ভিত্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী কলেজের শিক্ষক ধার করে এনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হলে এসব সমস্যা লাঘব করা সম্ভব হবে। আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যেই শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে শিগগিরই পিএসসিকে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে সরকারি কলেজে নিয়োগের জন্য এক থেকে দেড় হাজার প্রভাষক নির্বাচনের জন্য সুপারিশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, আলিয়া মাদরাসাসহ ৩২৯টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে মোট ১৬ হাজার ৫৫৪টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৫০৭টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২২১, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২৮৪ এবং প্রভাষক পদে আট হাজার ২৬টি পদ রয়েছে। দেশের ২১৫টি সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। সবচেয়ে বেশি শূন্য প্রভাষকের পদ। এ পদ খালি আছে প্রায় দুই হাজারটি।
শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি কলেজ উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হলেও সেখানে চরম শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমেই এ সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অফিসিয়াল আবেদন পাইনি। সেটি পেলে আইন পরিবর্তনসহ এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জানা গেছে, এই বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার ক্ষেত্রে পিএসসির চলমান আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এ আইন পরিবর্তনের জন্য খসড়া আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান খসড়া আইন চূড়ান্ত করে তা গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে পিএসসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook2Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: