সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COMমেয়রের অভিযানে গুঁড়িয়ে গেলো দীর্ঘদিনের মাদক-জুয়ার আস্তানা | সিলেট সংলাপ | SYLHETSANGLAP.COM

সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  » «   সিলেটে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা লক্ষাধিক পিস  » «   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার  » «   পেট পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন  » «   আমূল পরিবর্তন আসছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়  » «   ক্রেতা আনাগোনা কম সিলেটের পশুর হাটে!  » «   দক্ষিণ সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০  » «   বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স  » «   পরিকল্পিত নগর গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়র প্রার্থীদের  » «   প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া  » «   বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স  » «   উপহারের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়  » «   ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম  » «   উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স  » «   টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড  » «  

মেয়রের অভিযানে গুঁড়িয়ে গেলো দীর্ঘদিনের মাদক-জুয়ার আস্তানা

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে চলছিল মাদক, জুয়া ও পতিতাবৃত্তি। নগরীর কাষ্টঘর ছড়া দখল করে নির্মিত লম্বা ভবনে গড়ে তোলা হয় শতাধিক কোটা।
পাশাপাশি পৌরবিপনী একতলা ভবনের ছাদ দখল করে নির্মিত কক্ষে ছিল মাদক ব্যবসা, জুয়া, শিলং তীর, পতিতাবৃত্তিসহ সব অপরাধের আখড়া। মার্কেটের নিচ তলায় মসজিদ। আর ছাদের উপরে ব্যাচেলর হোটেলে চলতো পতিতাবৃত্তি।
সিলেট সিটি করপোরেশন ভবনের মালিক হলেও তদারকির অভাবে সেখানে এক যুগের বেশি সময় ধরে ছিল অপরাধের আস্তানা। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন না মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। অবশেষে মেয়র এর সাহসী উদ্যোগে অভিযানে নামে সিসিক।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২ ও ৩ এপ্রিল) দু’দিনের টানা অভিযানে মার্কেটের অবৈধ আস্তানা ও ছড়ার উপর নির্মিত ব্যাচেলর আবাসিক হোটেল গুড়িয়ে দেওয়া হয়। খোদ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কাউন্সিলরদের নিয়ে এ অভিযান চালান।
এ সময় বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে থাকা জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাদক ও জুয়ার বোর্ডের নিয়ন্ত্রকদের ব্যাংক হিসাবের বিভিন্ন কাগজপত্রও উদ্ধার করেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিশালাকার বিলবোর্ডের সরঞ্জামও খুলে নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি- ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্রের কারণে একযুগ ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেননি তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এসব অপরাধের আস্তানার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বার বার অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু ছড়া দখল করে গড়ে তোলা ব্যাচেলর হোটেলের মালিক আলাউদ্দিন আলো, জুয়াড়ি মালেক মিয়া ও দুলাল আহমদের কারণে ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য বলেন, ‘মার্কেটের দোতলায় বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জুয়া, মাদক ব্যবসা ও নারীদের দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করানোর তথ্য প্রমাণ মিলেছে। মাদক ব্যবসা ও জুয়া খেলার নিয়ন্ত্রক দুলাল আহমদের ব্যাংক হিসাব ও লাখ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।ছড়ার উপর নির্মিত ব্যাচেলর আবাসিক হোটেল। ছবি: বাংলানিউজপৌরবিপনী মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান কাশেমী বাংলানিউজকে বলেন, একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তবে সিসিকের অভিযানে অপরাধের আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
মসজিদের ছাদে অপরাধের আস্তানা ও পতিতাবৃত্তি চলার বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুল হক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান। তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা আগেই এই অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হওয়া উচিত ছিল।
সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ছড়াখাল উদ্ধারে জিরোটলারেন্স নীতিতে সিসিক। যেখানে ছড়াখাল ও অবৈধ আস্তানা মিলবে, খবর পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার (০২ এপ্রিল) থেকে চলা অভিযান মঙ্গলবার (০৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শেষ হয়। দু’দিনের অভিযানে অবৈধ আস্তানা গুড়িয়ে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিসিক। এদিন ছড়ার ওপর নির্মিত আবাসিক হোটেল থেকে ছয় নারীসহ আটজনকে আটক করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
1Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: