মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন আরিফুল হক চৌধুরী  » «   সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «  

বিভাগীয় মহাসমাবেশ: পুলিশ-র‌্যাবকে রেখে আ.লীগকে মোকাবেলার আহ্বান জানালেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

সিলেট সংলাপ ডেস্ক:
পুলিশ ও র‌্যাবকে ব্যারাকে রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ রাজপথে এক মিনিটও দাঁড়াতে পারবে না। এক্ষেত্রে তারা র‌্যাব-পুলিশকে ব্যারাকে রেখে আওয়ামী লীগকে রাজপথে বিএনপির বিরুদ্ধে নামার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, আইনি লড়াইয়ে খালদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। কারণ এ সরকার গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে অবৈধভাবে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। তাই দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি আগামী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
ড. মোশাররফ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়েছে। সরকার ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে। সেই সময় জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিলো। এবার যদি বিএনপি নির্বাচনে যায় তাহলে সরকারের একদলীয় নির্বাচনের উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে খালেদা জিয়াকে জেলে ঢুকানো হয়েছে। তবে খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ায় তার জনপ্রিয়তা কমেনি বরং বেড়েছে। তিনি দেশনেত্রী থেকে এখন বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তাকে জেলে নেয়ায় বিশ্বনেত্রীবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণকে ভয় পায়। তাই রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকারকে ইতোমধ্যে স্বৈরাচারি সরকার হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী।
মোশাররফ বলেন, ইতিহাস বলে স্বৈরাচার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। একসময় স্বৈরাচারের পতন হয়। এই সরকারেরও পতন হবে।
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলকে যৌক্তিক মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই আন্দোলনে সরকার পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। বিএনপির ভিশন ২০২০-৩০ কে মুক্তিযোদ্ধা ও নৃতাত্বিকদের কোটা ছাড়া অন্য কোটাগুলো বাদ দেয়া হয়েছে।
নিখোঁজ বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করে তার অভাব অনুভবের কথা নিজের বক্তৃতায় মোশাররফ বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকা সরকারকে হাজার হাজার ইলিয়াস আলীর মতো নিখোঁজ বিএনপি নেতাকর্মীর জবাব দিতে হবে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির সঙ্গে ছিল, আছে। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, খন্দকার মুক্তাদীর আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, শরাফত হোসেন সপু, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিকে গৌছ ও মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান প্রমুখ।
আরও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক এমপি শাম্মী আখতার, সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের শামীম, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য নাসের রহমান, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, চিত্রনায়ক হেলাল খান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক।
সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা, মাকে জেলে থাকতে দেব না : সিলেট নগরের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে কারান্তরিণ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয় বিভাগীয় সমাবেশ।
এসময় রেজিস্ট্রারি মাঠে থাকা ও বাইরে থেকে পৃথকভাবে মিছিল নিয়ে আসা দলের সকল নেতাকর্মীর মুখে ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি হতে পারে না’ ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা, মাকে জেলে থাকতে দেব না’ স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে সমাবেশস্থল।
বেলা ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সিলেট নগরের ও বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: