সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
তৃতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস  » «   নগরীর অভিজাত শপ-রেস্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা  » «   রাশিয়ার মিসাইলেই বিধ্বস্ত হয় মালেশিয়ার বিমান: তদন্ত দল  » «   রাজস্থানকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে কলকাতা  » «   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নিহত  » «   নগরীতে বাসের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত  » «   ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ যাত্রী আটক  » «   ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মের প্রতি আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলাম  » «   অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ আর নেই  » «   খাবারে ভেজাল মেশানো বড় পাপ : বিভাগীয় কমিশনার  » «   চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালঃ রিয়ালের বড় বাধা সালাহ!  » «   খুলনায় নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ: সুজন  » «   লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী  » «   গোয়াইনঘাটে ২০ দিন ধরে যুবক নিখোঁজ  » «   ১৪১ বাংলাদেশি যাত্রী নিয়ে সৌদি বিমানের জরুরি অবতরণ  » «  

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে রোহিঙ্গা নারীর আহবান

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ জঘন্য অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মুখোমুখি করতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন একজন রোহিঙ্গা নারী। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার নিন্দা জানানো ভন্ডামি।
নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি হিসেবে আইনজীবী রাজিয়া সুলতানা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ আর্জি জানান। রাজিয়া ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নারী ও শিশুদের ওপর কাজ করছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মাধ্যমে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের ওপর গতকাল নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত বির্তক অনুষ্ঠিত হয়।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, কেবলমাত্র রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আমাদের নারী-শিশুদের ওপর গণধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের হত্যা করেছে। নিজ বাড়িতে বা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ছয় বছরের শিশুও তাদের হাত থেকে রেহায় পায়নি। অনেককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিজ গবেষণা ও সাক্ষাতকারে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতি তিনি বলেন, গত আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩৫০টি গ্রাম আক্রমন করে পুড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি গ্রামে তিন শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যৌন সহিংসতায় শতাধিক সৈন্য অংশ নিয়েছে। রাখাইনের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে এই সহিংসতা চলেছে। ধর্ষণের পর রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে তাতে শুধু ভীতি সঞ্চারই নয়, বরং তাদের গর্ভধারণের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি বর্ণনা করে রাজিয়া সুলতানা বলেন, রোহিঙ্গা তরুণী-যুবতীদের হয় অপহরন, না হয় চাকরি বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেকেই ক্যাম্পে নিজেদের ভবিষ্যত দেখতে না পেয়ে এ সব প্রলভনে পা দিচ্ছে, কিন্তু আর ফিরে আসছে না।
চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরের সময় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারীদের সাথে কথা বলার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানা তিনি।
মিয়ানমারে রাখাইনসহ, শান, কোচিন ও অন্যান্য রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নৃশংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ, রাজনৈতিক ও আইনি সমর্থন দেয়ার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অনুরোধ জানান রাজিয়া সুলতানা।
সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত প্রামিতা প্যাটার্ন বলেন, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের নতুন প্রতিবেদনে মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশে যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের কৌশল ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার চিত্র ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, সঙ্ঘাতকালিন ধর্ষন বন্ধে অপরাধীদের জরুরিভিত্তিতে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানান জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: