মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «   আদালতকে খালেদা জিয়া : ‘আমার অবস্থা খুবই খারাপ’  » «  

বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছে ব্যাংকের সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা

সিলেট সংলাপ ডেস্কঃ
দেশের ৫৫টি ব্যাংক বড় ঋণগ্রহীতাকে ঋণ দিয়েছে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। আর ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংকই এখন বেকায়দায় আছে। বেশির ভাগ বড় ঋণগ্রহীতা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে ব্যাংকিং খাতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যাংকের মূলধনের ওপর। অনেক ব্যাংকই তাদের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না। ভারী হচ্ছে লোকসানের পাল্লা।
জানা গেছে, কোনো গ্রাহক কোনো ব্যাংকের মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ নিলেই তা বৃহৎ অঙ্কের ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণ ব্যাংক কোনো গ্রাহককে ১৫ শতাংশের বেশি নগদে বিতরণ করতে পারে না। এর বেশি ঋণ দিতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হয়। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করার অনুমোদন দিতে পারে না, তাও আবার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি যাচাই-বাছাই করে দেয়া হয়।
দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, বেশির ভাগ বৃহৎ অঙ্কের ঋণ দেয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। বড় বড় ব্যবসায়ী একাধিক গ্রুপ সৃষ্টি করে আইনের ফাঁক দিয়ে ব্যাংকের অর্থ বের করে নিচ্ছেন। একটি গ্রুপ ব্যাংকের মূলধনের সর্বাধিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদে ঋণ নিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে। এভাবে একই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ সৃষ্টি করে ব্যাংকের মূলধনের চেয়ে বেশি ঋণ নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান (৩১ অক্টোবর ’১৭) থেকে দেখা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের মোট মূলধন ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি বৃহৎ অঙ্কের ঋণ দিয়েছে ৭ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।
এ হিসেবে ব্যাংকটি বৃহৎ অঙ্কের ঋণ দিয়েছে মোট মূলধনের ১৯৯ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে বৃহৎ অঙ্কের ঋণ দিয়েছে ১৩ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা মোট মূলধনের ৩৬৫ শতাংশ। অনুরূপভাবে সোনালী ব্যাংক ৫৪৬ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংক ৫৫৫ শতাংশ ঋণ দিয়েছে মোট মূলধনের। এভাবে ৫৫টি ব্যাংকের মোট ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে বড় ঋণগ্রহীতাদেরকে ঋণ দিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। এ ঋণ মোট মূলধনের ২৩৩ শতাংশ।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বড় ঋণগ্রহীতারা যেমন প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছেন, তেমনি বছরের পর বছর তা পরিশোধ না করে নানা কৌশলে আটকে রাখছেন। ঋণ পুনর্গঠনের নামে, কখনো উচ্চ আদালতে রিট করে, আবার কখনো কোনো ডাউন পেমেন্ট না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে ঋণ নবায়ন করে নিচ্ছেন। এভাবে ব্যাংকের ঋণ আদায় কমে গেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়। আর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় সমন্বয় করতে গিয়ে বিভিন্ন চার্জের নামে সাধারণের পকেট কাটা হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বৃহৎ অঙ্কের ঋণ ঠেকাতে আইনের সংশোধনসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। অন্যথায় ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: