সোমবার, ২১ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মৌলভীবাজারে জামাতার হাতে শাশুড়ি খুন  » «   রামাদান  » «   রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি, শুক্রবার থেকে সিয়াম শুরু  » «   বিশ্বরাজনীতিতে নতুন স্নায়ুুযুদ্ধ  » «   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ  » «   মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি  » «   হাওরের ফসলের ন্যায্য দাম মিলছে না  » «   আজ থেকে কলেজে ভর্তির আবেদন, চলবে ২৪ মে পর্যন্ত  » «   ঘরে ঘরে সেহরি পৌঁছে দেবে ড্রোন  » «   কোটার প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ফের বিক্ষোভ  » «   গুগল অ্যাসিসট্যান্টে ফোনকলসহ বিভিন্ন ফিচার  » «   শেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাতিল  » «   সাকিবদের আরেকটি দুর্দান্ত জয়  » «   মিয়ানমারের প্রতি নিরাপত্তা পরিষদঃ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করুন  » «   শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন মাহাথির মোহাম্মদ  » «  

রামাদান

শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফি.): 

যাদের সাথে আপনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, তাদের সাথে মীমাংসা করে নিন এবং সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন। আপনি যদি চান রামাদানের আমলগুলো আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যাক, তাহলে এক্ষুনি আপোস করে নিন, মিটিয়ে ফেলুন যত তিক্ত সম্পর্ক। আর এই কাজটা করুন আজ এবং এক্ষুনি, রামাদান শেষ হয়ে যাবার আগেই! কেউ হয়তো বলবেন, “আমার এখানে কোনো দোষ ছিলো না, সব দোষ তার। সে-ই এসব শুরু করেছিল, সে-ই দোষী” ইত্যাদি ইত্যাদি। না ভাই, এখানে কে দোষী সেটা ব্যাপার নয়। আপনি যদি চান আপনার আমলগুলো কবুল হোক, তাহলে আপনাকে সব মনোমালিন্য দূর করতেই হবে এবং আপনজনদের সাথে মিলে যেতে হবে।
কোনো ভাই হয়তো বলবেন ঐ ভাইয়ের সাথে আমার মনের মিল হয় না, বোনেরা হয়ত বলবেন ঐ বোনের সাথে ঠিক মিশতে পারি না ইত্যাদি। দেখুন, মীমাংসা করার অর্থ এটা না যে, তাকে কালকেই বাসায় দাওয়াত দিতে হবে বা একসাথে বসে কফি খেতে হবে। সেরকম কিছু করতে পারলে তো অবশ্যই খুব ভালো। কিন্তু সেটা যদি সম্ভব না হয়, নূন্যতম আপনার যেটা করা উচিত সেটা হলো, আসসালামু আলাইকুম বলে অন্তত তাকে সালাম দিন। ভাইয়েরা ভাইদেরকে এবং বোনেরা বোনদেরকে সালাম দিন। অন্তত এটুকু আপনাকে করতেই হবে যদি আপনি সেই মানুষদের একজন না হতে চান, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন তাদেরকে পরিত্যাগ করতে। এই কাজটি করুন ঈদের আগেই। সাক্ষাৎ করুন, এসএমএস পাঠান অথবা মসজিদে আসুন এবং সালাম দিয়ে আপনার ভাই বোনদের আপন করে নিন। আপনি নিজে প্রথমে উদ্যোগী হোন, কেননা যিনি প্রথম এগিয়ে আসবেন তিনিই আল্লাহর বেশি প্রিয় হয়ে যাবেন ইনশা আল্লাহ।
আরেকটি দিক হলো, এই রামাদানেই আমাদের মুসলিম ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখা সাক্ষাৎ করছি। ইফতারে, তারাবীতে, মসজিদে আমাদের প্রতিনিয়ত দেখা হচ্ছে, বিভিন্ন দাওয়াতে অনেকেই পরিবার নিয়ে একসাথে ইফতার করছি। এই অধিক দেখা সাক্ষাতের ফলে পরস্পরের সাথে নানা সমস্যা বা মনোমালিন্য তৈরি হবারও একটা সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। এই ধরণের মনোমালিন্য বা পারস্পরিক ঘৃণা ছড়ানোর কাজ খোদ মসজিদে বসেই হচ্ছে। মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন ঘরানা আছে, বিভিন্ন মতের লোক আছে। এদের মধ্যকার যে ঘৃণা আর অসহনশীলতা আমরা দেখি, সেগুলো প্রায়ই মসজিদে বসেই চর্চা করা হয়, পবিত্র রামাদান মাসেও সেগুলো বন্ধ হচ্ছে না।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, রামাদানের শেষ মুহূর্তে অন্তর থেকে সকল রাগ, ঘৃণা, ক্ষোভ, ক্রোধ মুছে ফেলুন এবং অন্তরটাকে পবিত্র করে ফেলুন। আমাদের উম্মাহর মাঝে পবিত্র হৃদয়ের আজ বড় অভাব। আজ সেই উম্মত কোথায়, যারা সালাফদের মতো প্রতি রাতে তার সব ভাইদের ক্ষমা করে দিয়ে, সকলের প্রতি সব ক্ষোভ ঘৃণা মুছে ফেলে একটা পবিত্র অন্তর নিয়ে ঘুমুতে যান? কে ঠিক কে ভুল সেটা কোনো বিষয় নয়। জরুরী হলো নিজের অন্তরকে পরিষ্কার রাখা, কারো প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব না রাখা।
“আর তাদের পর যারা এসেছে তারা বলল -হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করে দিন যারা আমাদের পূর্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। আর আমাদের অন্তরে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে কোনও ঘৃণা রাখবেন না। হে রব! নিশ্চয়ই আপনি অতি করুণাময়, পরম দয়ালু। (সূরাহ আল-হাশরঃ আয়াত ১০)
আল্লাহ এই আয়াতে তাঁদের প্রশংসা করেছেন যারা দু’আ করেছিল এই বলে যে, হে আল্লাহ্, আমাদের অন্তরে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ঘৃণা রাখবেন না।
ইবনে কাসীর (রহঃ) তাঁর আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়ার ত্রয়োদশ খণ্ডে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে হুসাইন বলেন, “আমি ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়ার সামনে এক ভাই সম্পর্কে কিছু খারাপ কথা বললাম। ইয়াস ছিলেন একজন জ্ঞানী ও আল্লাহভীরু লোক। ইয়াস আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি রোমানদের সাথে যুদ্ধ করেছ? সুফিয়ান উত্তর দিলেন, না। ইয়াস জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সিন্ধু, হিন্দ অথবা তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ করেছ?’ সুফিয়ান বললেন, না, তাদের সাথে যুদ্ধ করিনি। ইয়াস তখন বললেন, ইসলামের শত্রু সিন্ধ, হিন্দ আর তুর্কীরা তোমার হাত থেকে নিরাপদ অথচ মুসলিম ভাইরা তোমার থেকে নিরাপদ নয়, এটা কীভাবে সম্ভব?”
এই ঘটনার পর সুফিয়ান বললেন, “এর পর থেকে আমি আর কখনো মুসলিমদের ব্যপারে কথা বলিনি।“

কিছু লোক আছে যারা মুসলিমদের সাথে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে, তাদেরকে অপবাদ উপহার দেয়, আর তাদের মিষ্টি হাসিটা গচ্ছিত রাখে তাওহীদের শত্রুদের জন্য। আন্তঃধর্ম গোলটেবিল বৈঠকে তাদের দেখবেন কাফির বন্ধুদের সাথে হাস্যোজ্জ্বল! কারো মাঝে শিরক থাকলে তারা সেটাকে বড় কোনো সমস্যাই মনে করে না, উল্টো তার সাথে আলোচনায় বসাটাকে তারা বিশাল জরুরি ব্যাপার মনে করে। অন্যদিকে বিশুদ্ধ তাওহীদে বিশ্বাসী কোনো মুসলিম যদি এই মতের অনুসারী হয় যে, ভোট দেওয়া হারাম, তাহলে তারা তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করবে! তারা তাকে একঘরে করবে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাবে, গুজব ছড়াবে, পারলে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বে! কবর পূজারীদের সাথে একাত্ম হতে তাদের কোনো আপত্তি নেই, খ্রিস্টান ত্রিত্ববাদীদের সাথে বৈঠক-সংলাপ তাদের চোখে অবশ্য কর্তব্য, আর তাদের মতে, শিয়াদের সাথে ভ্রাতৃত্ব হতে হবে সবার আগে, একেবারে ফরযে আইন!
কিন্তু আপনি যদি মুসলিম উম্মাহর স্বার্থস্বংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন, উম্মাহের জন্য দরদী মানুষদের সাথে সম্পর্ক রাখেন, তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাহলে তারা আপনার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগবে। আপনি যদি দুর্বল, কারারুদ্ধ, নিহত এবং যাদের জন্য কথা বলার কেউ নেই তাদের জন্য কথা বলেন, তাহলে আপনার আর রক্ষা নেই। আল্লাহর শত্রুদের জন্য কোমল-দরদী হওয়া এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহতে বিশ্বাসীদের সাথে তর্জন-গর্জন করা – এটা মু’মিনদের বৈশিষ্ট্যের বিপরীত। যে বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে আল্লাহ সূরা মায়িদায় বলেছেন, তারা মুসলমানদের প্রতি সদয় এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook2Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: