শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: শেষ মূহুর্তের দুই গোলে চমক দেখালো ব্রাজিল  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ঃ আর্জেন্টিনাকে ৩ গোলে বিধ্বস্ত করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া  » «   ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৮: নক আউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো স্পেন  » «   হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়া-ডেনমার্ক ম্যাচ ড্র  » «   মেসি সর্বকালের সেরা: রাকিটিচ  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: রোনালদোর গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে পর্তুগাল  » «   বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ঃ সৌদি আরবকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ে  » «   কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহঃ তিনজনের লাশ উদ্ধার  » «   নগরীতে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে কিশোর খুন  » «   বাংলাদেশী নাজমা খানের আহ্বানে হিজাব পরছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও  » «   কেমন আছেন সালাহ?  » «   সিলেট সিটি নির্বাচন ৩০ জুলাই  » «   তৃতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস  » «   নগরীর অভিজাত শপ-রেস্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা  » «   রাশিয়ার মিসাইলেই বিধ্বস্ত হয় মালেশিয়ার বিমান: তদন্ত দল  » «  

লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ
নানা জাতের উদ্ভিদ আর জীববৈচিত্রে ভরপুর ১২শ ৫০ হেক্টর সংরক্ষিত বন নিয়ে ১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দেশের ১৬টি উদ্যানের মধ্যে অন্যতম এই লাউয়াছড়া উদ্যান। কিন্তু এ বন থেকে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাছ। উজাড় হচ্ছে বন। আর এতে হুমকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণী। লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে অসহায় কর্তৃপক্ষও।
খাসিয়া সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বনের প্রায় ৩০ শতাংশ গাছ পাচার হয়েছে। ফলে কমেছে বনের ঘনত্ব। গত সপ্তাহেও গভীর রাতে লাউয়াছড়া বন থেকে মূল্যবান আগর গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে পাহাড়ে বসবাসরত খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ধাওয়ায় টুকরো করে রাখা মূল্যবান গাছগুলো ফেলে পালিয়ে যায় চোরচক্র। পরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় মূল্যবান এসব গাছ উদ্ধার করে বন বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শুধু গাড়িভাঙ্গা এলাকা থেকে তিনটি বৃহদাকার সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছে দুর্বৃত্তরা। কেবল সাক্ষী হয়ে আছে গাছের গুড়িগুলো। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গাছ পাচারের ফলে লাউয়াছড়া উদ্যান অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীসহ উদ্যানে বসবাসরত প্রাণীর বাসস্থান সঙ্কট প্রকট হচ্ছে। খাবার ও আবাসস্থল সঙ্কটে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী।
বিভাগীয় বন কার্যলায় সূত্রে জানা যায়, এই বনে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। সমৃদ্ধ প্রাণী বৈচিত্র্যেরও আঁধার এই বন। বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এই বন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
কিন্তু প্রতিনিয়তই দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় কিংবা চাকায় পিষ্ট হয়ে কোনো না কোনো বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে লাউয়াছড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত সড়ক ও রেলপথসমূহ বন্যপ্রাণীকূলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ছুটির সময় মাত্রাতিরিক্ত পর্যটক বন্যপ্রাণীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের হুড়োহুড়ি, শুষ্ক মৌসুমে পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সঙ্কট এসব মিলিয়ে উদ্যানের জীব-বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। খাদ্য সঙ্কঠের কারণে প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। ধরা পড়ছে মানুষের হাতে।
এদিকে উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দুর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।
বাইরে থেকে এই ঘন বনের সৌন্দর্য্য মন কাড়ে দর্শনাথীদের। কিন্তু বনের ভেতরে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দাঁড়ানো মূল্যবান গাছের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে আছে গুড়ি। প্রতিদিন দিন-দুপুরে জ্বালানি হিসেবে গাছ কেটে কাঠ নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। রাতের আধাঁরে গাছ উধাও হচ্ছে বন থেকে। ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক এই ঘন বন।
গাছ চুরি বন্ধে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সচেতন মহল সোচ্চার থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে যারা আছে তারাও উদাসীন এই বনের প্রতি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, গহীন এই বন রক্ষায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বনের উপর নির্ভরশীলদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। তবে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বন বিভাগ ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তা আবু মুছা শামসুল মোহিত চৌধুরী বলেন, লোকবল কম থাকায় অনেক সময় আমরা সামাল দিতে পারি না। তবে এখন থেকে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook3Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: