সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন আরিফুল হক চৌধুরী  » «   সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «  

লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ
নানা জাতের উদ্ভিদ আর জীববৈচিত্রে ভরপুর ১২শ ৫০ হেক্টর সংরক্ষিত বন নিয়ে ১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দেশের ১৬টি উদ্যানের মধ্যে অন্যতম এই লাউয়াছড়া উদ্যান। কিন্তু এ বন থেকে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাছ। উজাড় হচ্ছে বন। আর এতে হুমকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণী। লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে অসহায় কর্তৃপক্ষও।
খাসিয়া সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বনের প্রায় ৩০ শতাংশ গাছ পাচার হয়েছে। ফলে কমেছে বনের ঘনত্ব। গত সপ্তাহেও গভীর রাতে লাউয়াছড়া বন থেকে মূল্যবান আগর গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে পাহাড়ে বসবাসরত খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ধাওয়ায় টুকরো করে রাখা মূল্যবান গাছগুলো ফেলে পালিয়ে যায় চোরচক্র। পরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় মূল্যবান এসব গাছ উদ্ধার করে বন বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শুধু গাড়িভাঙ্গা এলাকা থেকে তিনটি বৃহদাকার সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছে দুর্বৃত্তরা। কেবল সাক্ষী হয়ে আছে গাছের গুড়িগুলো। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গাছ পাচারের ফলে লাউয়াছড়া উদ্যান অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীসহ উদ্যানে বসবাসরত প্রাণীর বাসস্থান সঙ্কট প্রকট হচ্ছে। খাবার ও আবাসস্থল সঙ্কটে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী।
বিভাগীয় বন কার্যলায় সূত্রে জানা যায়, এই বনে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। সমৃদ্ধ প্রাণী বৈচিত্র্যেরও আঁধার এই বন। বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এই বন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
কিন্তু প্রতিনিয়তই দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় কিংবা চাকায় পিষ্ট হয়ে কোনো না কোনো বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে লাউয়াছড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত সড়ক ও রেলপথসমূহ বন্যপ্রাণীকূলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ছুটির সময় মাত্রাতিরিক্ত পর্যটক বন্যপ্রাণীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের হুড়োহুড়ি, শুষ্ক মৌসুমে পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সঙ্কট এসব মিলিয়ে উদ্যানের জীব-বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। খাদ্য সঙ্কঠের কারণে প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। ধরা পড়ছে মানুষের হাতে।
এদিকে উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দুর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।
বাইরে থেকে এই ঘন বনের সৌন্দর্য্য মন কাড়ে দর্শনাথীদের। কিন্তু বনের ভেতরে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দাঁড়ানো মূল্যবান গাছের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে আছে গুড়ি। প্রতিদিন দিন-দুপুরে জ্বালানি হিসেবে গাছ কেটে কাঠ নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। রাতের আধাঁরে গাছ উধাও হচ্ছে বন থেকে। ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক এই ঘন বন।
গাছ চুরি বন্ধে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সচেতন মহল সোচ্চার থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে যারা আছে তারাও উদাসীন এই বনের প্রতি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, গহীন এই বন রক্ষায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বনের উপর নির্ভরশীলদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। তবে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বন বিভাগ ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তা আবু মুছা শামসুল মোহিত চৌধুরী বলেন, লোকবল কম থাকায় অনেক সময় আমরা সামাল দিতে পারি না। তবে এখন থেকে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: