মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «   আদালতকে খালেদা জিয়া : ‘আমার অবস্থা খুবই খারাপ’  » «  

ড্র করেও শেষ ষোলতে স্পেন

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্কঃ
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহুর্তে ইয়াগো আসপাসের নাটকীয় গোলে মরক্কোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করে ‍‘বি’ গ্রুপ থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে উঠে গেছে স্পেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের দুই ড্র ও এক জয়ে তাদের পয়েন্ট ৫। একই গ্রুপ থেকে নক আউট পর্বের টিকিট কেটেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও। সমান সংখ্যক ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪।
এর আগে সোমবার (২৫ জুন) সারানস্কে স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথমার্ধের শুরু থেকেই অপ্রত্যাশিত দাপুটে খেলা উপহার দিতে থাকে আফ্রিকার দেশ মরক্কো। রক্ষণ ভাগ, মাঝ মাঠ ও আক্রমণ ভাগ; তিন বিভাগেই দলটির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
ছোট ছোট পাসে ম্যাচের শুরুতেই তাদের ভেতরে স্প্যানিশ রক্ষণ ভাঙার অদম্য প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু ম্যাচের ১৩ মিনিট অব্দি রামোসদের সুরক্ষিত দেয়াল ভাঙতে পারেনি। তবে সময়ও নেয়নি। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে রামোস ও ইনিয়েস্তার ভুল বোঝাবুঝিতে নিজেদের সীমানায় বল পেয়ে যান বুতাইব। মাত্রই আক্রমণ শেষ করে স্প্যানিশ শিবির তখন মরক্কো রক্ষণ সীমানায়। ‍মাঠ তখন একেবারে ফাঁকা।
সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে বল পায়ে রিসিভ করেই এক মুহুর্তও দেরি করলেন না বুতাইব। লম্বা টান দিয়ে চোখের পলকেই ছুটে গেলেন স্পেন সীমানায়। সার্জিও রামোস তার পিছু পিছু ছুটছেন। তাকে ধরতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু পারলেন না। সেই সুযোগে গোল পোস্টের একেবারে সামনে গিয়ে গোলরক্ষক দাভিদ দে গিয়াকে বোকা বানিয়ে ফিনিশিং টাচে মরক্কোকে ১-০ তে এগিয়ে দেন। উল্লাসের মাতম উঠলো মরক্কো শিবিরে।
একে তো ১৯৯৮ সালের পর এটাই বিশ্বকাপে মরক্কোর প্রথম গোল। তার ওপরে আবার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ছাড়িয়ে যাওয়ার আনন্দ। কাজেই মাতম ওঠাটা অস্বাভাবিক কিছুই ছিল না।
তবে দলটির আনন্দ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বুতাইবের গোলের উদযাপন শেষ হতে না হতেই ১৯ মিনিটে মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে ১-১ গোলে সমতা এনে দিলেন ইসকো। এর ঠিক ৬ মিনিট পরে আবার স্প্যানিশ রক্ষণ ফাঁকা পেয়ে বল নিয়ে ঢুকেছিলেন বুতাইব। কিন্তু এবার আর হলো না। সেখানে বাঁধ সাধলেন গোলরক্ষক গিয়া।
মরক্কোর ওই আক্রমণের পর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠছিলে স্পেনও। কিন্তু মরক্কো দেওয়ালে তাদের আক্রমণগুলো প্রতিহত হলে ১-১ সমতা নিয়েই দু’দলকে মাঠ ছাড়তে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আক্রমণ ধার বাড়ায় দু’দলই। সেই প্রতিযোগিতায় শুরুর দিকে স্পেনেরে তুলনায় মরক্কোই ছিল শ্রেয়তর। ৫৬ মিনিটের কথা। স্পেন বক্সের সামান্য বাইরে থেকে সোজা গোল পোস্টে শট নিলেন আমরাবাত। নিখুঁত শট ছিল। গিয়া ও পরাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগা মরক্কো। ক্রসবারে গিয়ে বলটি ফিরে এলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় মরক্কো।
এর ছয় মিনিট যেতে না যেতেই সুযোগ এসেছিল স্প্যানিশ শিবিরেও। বেশ গোছালো একটি আক্রমণ থেকে মরক্কোর গোল পেস্টের সামনে পাওয়া ক্রস থেকে জালে শট নিয়েছিলেন ইসকো। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি।
ঠিক তার পরের মিনিটেই‍ লা রোজা শিবিরের আক্রমন। পেনাল্টি সীমানা থেকে হেড করে জালে বল ঠেলতে চেয়েছিলেন পিকে। সেখানে বাধ সাধলেন গোল রক্ষক মুনির এল কাজুয়ি।
এরপর যা ঘটলো তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ৮১ মিনিটে পাওয়া মরক্কোর কর্ণার থেকে কিক নিলেন ফজর। বলটি গিয়ে জটলার ভেতরে পড়লে লাফিয়ে উঠে মাথায় সজোরে লাগিয়ে দিলেন বদলি খেলোয়াড় এন নাসিরি। বলও নিশ্চিন্তে জাল খুঁজে নিল।
২-১ এ লিড পেল মরক্কো।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে বাকি সময়ের পুরোটাই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় আঘাত হানতে চেয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টাই মরক্কোর দেয়ালে নষ্যাত হয়ে গেছে।
কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহুর্তে এসে সার্জিও রামোসদের আর আটকাতে পারেনি মরক্কো। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে গোলপেষ্টের ডান দিক থেকে কার্ভাহালের পা থেকে আসা বলটি আসপাস ফ্লিক করে জালে ঠেলে দিলে ২-২ এ সমতার উল্লাস ফেরে ২০১০ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে।
প্রাথমিকভাবে গোলটিকে অফসাইড বলে ঘোষণা দেন রেফারি।
তবে রিভিউ দেখার পর রেফারি তার সিদ্ধান্ত বদলালে সমতা নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে ওঠার আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: