মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন আরিফুল হক চৌধুরী  » «   সিম রেজিস্ট্রেশনে আর কাগজ-কলম লাগবে না  » «   টাইফুন ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপান, নিহত ৯  » «   রোনালদোর বেতন তিন গুণ বেশি!  » «   দ্বিতীয়বার সিলেটের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন আরিফ  » «   যে নামগুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না  » «   ট্রাম্পের ‘প্যান্ট’ খুলে দিল যে বই  » «   নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ  » «   ‘অ্যাওয়ে গোল’ বাতিল করো, দাবি মরিনহো-ওয়েঙ্গারদের  » «   শহিদুলকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে নির্দেশ  » «   আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন  » «   মাহাথিরের রসিকতায় শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল!  » «   দেশের বাইরে রান করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি : মুশফিক  » «   দুর্দান্ত জয়ে সিপিএলের শীর্ষে মাহমুদুল্লাহরা  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি  » «  

আরপিও সংশোধন নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন

সিলেট সংলাপ ডেস্ক:
নির্বাচন ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এমন কোনো বিধি-বিধান যুক্ত না আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ সংশোধনীতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুপারিশ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সুপারিশ আইনে রূপ পেলে তা নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচনে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে না। কিন্তু আরপিও সংশোধনের এ প্রস্তাব অনুমোদনের পর কোনো কথা বলতে চাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। গত সোমবার খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ইভিএম যুক্ত করে আরপিও সংশোধনের বিষয়টি প্রকাশ করলেও সেখানে আর কী কী সংশোধনী রাখা হয়েছে তা অবশ্য গোপন রেখেছে ইসি। ইসির আইন সংস্কার কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম। গতকাল দিনভর চেষ্টা করেও তার সাথে সাংবাদিকেরা আরপিও নিয়ে কথা বলতে পারেননি। কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ‘নির্বাচনব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের অধীনে দেড় লাখ ইভিএম ক্রয় করতে চায় ইসি। এ জন্য জাতীয় নির্বাচনের চার মাসেরও কম সময় সামনে রেখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই কমিশনে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। আর এ ইভিএম যুক্ত করে আরপিও সংশোধনে উঠেপড়ে লাগে ইসি। তবে ৩০ আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। কমিশন সভাও বর্জন করেন তিনি। পরে ইভিএম ব্যবহারে তাড়াহুড়া না করার জন্য পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর অস্বস্তিতে পড়ে কমিশন। এ অস্বস্তির মধ্যেই গত সোমবার আরপিও’র খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
ইসি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খসড়ার কপি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করছে ইসি। ইসির আইন শাখা, নির্বাচন সহায়তা শাখা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কোনো কর্মকর্তার কাছে খসড়ার কোনো অনুলিপি পাঠানো হয়নি। পুরো বিষয়টি ইসি সচিবের দফতর থেকে তদারকি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গতকাল দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ইসি সচিবের সাথে দেখা করতে পারেননি সাংবাদিকেরা।

সে দিনের কমিশন সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইসির সুপারিশগুলো খুবই দুর্বল। এ ধরনের সুপারিশ আইনে রূপ পেলে তা নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে না। অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচনে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে না। বরং অতীতের মতোই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসির এখতিয়ার সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। নির্বাচন ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে কিংবা নির্বাচনে কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে, এমন কোনো বিধিবিধান যুক্ত না করেই কমিশন সভায় অনুমোদিত সংশোধিত আরপিওর প্রস্তাবনাটি সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরো জানান, সংশোধিত আরপিওর প্রস্তাবে কম-বেশি ১০টি সুপারিশ রাখা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধান এবং আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) যুক্ত হয়েছে। এর আগে আরপিও সংশোধনসংক্রান্ত আইন সংস্কার কমিটি ৩৫টি সংশোধনের প্রস্তাব সুপারিশ করেছিল এবং সেখানে নির্বাচনে ইসির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কিছুটা সুযোগ ছিল।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, আরপিওর সংজ্ঞায় ইভিএম যুক্ত করাসহ প্রায় এক ডজন সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে ইসি। অথচ এসব সুপারিশ সংক্রান্ত ধারা নির্বাচনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে না। কারণ নির্বাচনব্যবস্থা শক্তিশালী ও নির্বাচনে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগে সক্ষমতার জন্য আরপিওতে বিধি-বিধান সংযোজন-বিয়োজনের লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল সাংবিধানিক সংস্থাটি, তা চূড়ান্ত প্রস্তাবে যুক্ত হয়নি। এখন আরপিওর যে সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এর মধ্যে কেবল ইভিএম আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে যাতে সংসদ নির্বাচনে এটা ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হয়। বর্তমানে এটি স্থানীয় নির্বাচনের বিভিন্ন স্তরে ব্যবহার হচ্ছে। অনলাইনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধানও রাখা হয়েছে সংশোধিত আরপিওর খসড়া প্রস্তাবনায় (আগে প্রার্থী নিজে কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জমা দেয়া লাগত)। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের ক্ষমতা ইসির থাকলেও এবার এর সাথে বদলির ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে।
আর ঋণখেলাপিদের মনোনয়নপত্র জমার আগ পর্যন্ত ঋণ-পুনঃতফসিলের বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে। আগে তফসিল ঘোষণার আগে ঋণ-পুনঃতফসিলের বিধান ছিল।
স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সাথে টিআইএন সনদ যুক্ত করার বিধানে এবার জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলে যাচাইয়ে কেবল একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে যাচাইয়ের সময়ই তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হতো। নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে যাচাইয়ের পরিবর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে। কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নির্বাচনের আপিল ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমা করতে আরো পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হতো, নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ২৫ হাজার করা হয়েছে। আর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র অফেরতযোগ্য করা হয়েছে; ফি ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আরপিও সংশোধনে ইসির আইন সংস্কার কমিটির ৩৫ সুপারিশের অন্যতম ছিল, আরপিও’র৯১ এ(১) ধারায় সংশোধনী। এ ধারাতে ছিল নির্বাচনে বিচারিক কর্মকর্তাদের অবাধ ক্ষমতা প্রদান। সেখানে নির্বাচনী অপরাধের জন্য সামারি ট্রায়াল করে শাস্তি দেয়ার প্রস্তাব ছিল ইসির। এমনকি অপরাধের শাস্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনকে সুপারিশ করতে পারবে এবং পেনাল কোডে যেভাবে অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে তার আলোকে সাজা দেবেন এসব কর্মকর্তা। সংশোধিত আরপিওতে এ বিধানটি বাদ দেয়া হয়েছে। একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হলে মোট ভোটারের ১ শতাংশ জনের স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হতো। রাজনৈতিক দলবহির্ভূত এসব প্রার্থীর ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে এক হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়ে প্রার্থী হতে পারবেন- এ বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছিল আইন সংস্কার কমিটি। এটিও সংশোধিত আরপিওতে রাখা হয়নি বলে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব ও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা নির্দিষ্ট রাখতে ব্যয় মনিটরিং কমিটি ও অডিটের নিমিত্তে আলাদা কমিটি গঠন, নির্বাচনে অভিযোগ দাখিল ও তা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এ বিধান সংযোজন, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাজা বাড়িয়ে সর্বনিম্নœ তিন বছর করার বিধান যুক্তের প্রস্তাব ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে জানিয়ে দেয়ার সুপারিশও ছিল। কিন্তু এসব বিধান রাখা হয়নি আরপিও সংশোধনীর খসড়ার প্রস্তাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: